লোকায়ুক্ত নিয়োগ এবং মানবাধিকার কমিশনের জন্য নবান্নে ডাকা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে পূর্ব ধারণা মতোই রবিবার তিনি এই বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব এবং কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দেন, যেখানে তাঁর অনুপস্থিতির স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে না যাওয়ার প্রধান কারণ:
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর চিঠিতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীরব। প্রধান কারণগুলি হলো:
বিজেপি নেতাদের উপর হামলা: বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হলেও মুখ্যমন্ত্রী চুপ ছিলেন।
নেত্রীদের বিকৃত ছবি: বিজেপির দুই নেত্রীর AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে বিকৃত করা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
নিজের উপর আক্রমণ: কালীপুজোর একটি কর্মসূচিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ: শুভেন্দু অভিযোগ করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন এবং বহু বছর ধরে সংবিধানের মূল্যবোধ নষ্ট করছেন।
পুলিশের ভূমিকা: বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, পুলিশের একটি বড় অংশ এখন রাজনৈতিক দলের “পদলেহনকারী কর্মী”-র মতো আচরণ করছে।
অনুপস্থিত থেকেও মতামত প্রদান:
যদিও শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছেন, তবুও তিনি জানিয়েছেন যে লোকায়ুক্ত ও মানবাধিকার কমিশনের সম্ভাব্য নামের তালিকা যেন পরে তাঁকে পাঠানো হয়। সেই তালিকা দেখে তিনি তাঁর মতামত দেবেন।
শুভেন্দু অধিকারীর নবান্নের বৈঠক বয়কট এবং চিঠিতে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। তাঁর এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।