ধান কাটা বন্ধ, সন্ধের পর ঘরবন্দি স্থানীয়রা! বাঘের ভয়ে থমকে সুন্দরবনের জীবনযাত্রা, নজরদারি বাড়াল বন দফতর

সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমায় ফের বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, উপেন্দ্রনগর এলাকায় ঠাকুরান নদীর চরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ার পর থেকেই গোটা এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও বন দফতর সঙ্গে সঙ্গে ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা পেতেছে, কিন্তু চার দিন কেটে গেলেও এখনও বাঘটিকে খাঁচাবন্দি করা যায়নি।

জীবিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা নির্ভর করে মূলত মাছ ও কাঁকড়া ধরার ওপর। এছাড়াও জমিতে প্রচুর ধান ফলেছে এবং এখন ধান কাটার সময়। কিন্তু বাঘের ভয়ে কেউই জমিতে যেতে পারছেন না।

স্থানীয়দের দুর্ভোগ: জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দিনের বেলা আশপাশের লোক বেরোলে তবেই তাঁরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন। সূর্যের আলো চলে গেলে বাড়ি থেকে বেরোনো কার্যত বন্ধ। এর ফলে নানা রকমের অসুবিধা হচ্ছে।

বিধায়কের আশ্বাস: গতকাল এলাকায় এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা।

বন দফতরের তৎপরতা
বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বাঘটি সম্ভবত রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকাতেই রয়েছে। কিন্তু যেহেতু জঙ্গল লাগোয়া একটি গ্রাম রয়েছে, তাই নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বনকর্মীরা বাঘ ধরতে এবং এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা চালাচ্ছেন:

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: জঙ্গল লাগোয়া এলাকা ফেন্সিং (বেড়া) দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।

সতর্কতা প্রচার: এলাকায় নাগাড়ে মাইকিং করে সতর্কতা প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে স্থানীয়রা নিরাপদ থাকেন।

নজরদারি: জোরকদমে নজরদারি চলছে।

বন দফতরের উদ্বেগ বাড়ছে কারণ বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও বাঘটি ধরা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে কবে বাঘ খাঁচাবন্দি হয় এবং এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফেরে, এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার বাসিন্দারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy