দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের আইনি জটিলতা ও কূটনৈতিক আলোচনার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক জলসীমান্তে ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৭৯ জন মৎস্যজীবী বন্দির বিনিময় সম্পন্ন হলো। এর ফলে উভয় দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে মৎস্যজীবী পরিবারগুলির মধ্যে খুশির হাওয়া ফিরেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে আন্তর্জাতিক জলসীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশের দু’টি ট্রলার-সহ ৩২ জন মৎস্যজীবীকে আটক করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে ভারত সরকার।
একইভাবে, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডও ভারতের তিনটি ট্রলার ও ৪৭ জন মৎস্যজীবীকে আটক করেছিল। তাঁরা বাংলাদেশে গত কয়েক মাস ধরে বন্দি ছিলেন। দুই দেশের সরকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত নথিপত্র যাচাই ও আইনি বাধ্যবাধকতা শেষ করার পর তাঁদেরও স্বদেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আন্তর্জাতিক জলসীমান্তের নির্ধারিত বিন্দুতে দুই দেশের উপকূল রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। এই মৎস্যজীবীদের মুক্তির খবরে পশ্চিমবঙ্গের কাকদ্বীপ, নামখানা ও ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায় মৎস্যজীবী পরিবারগুলিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে এখনও বহু মৎস্যজীবী আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের ফেরাতে ভারত ও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।