চরম বিপর্যয়ে ইন্ডিগো! ‘সমস্যার উৎস ইন্ডিগো নিজেই’, বিমান বাতিলের দায় সরাসরি সংস্থার ঘাড়ে চাপালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার উড়ান বাতিলের ঘটনায় দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগো-র পরিষেবা কার্যত বিধ্বস্ত। এই ‘অপারেশনাল মেল্টডাউন’-এর দায় সরাসরি সংস্থার ঘাড়েই চাপালেন অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু।

শনিবার এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেন, “দোষ কার, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সমস্যার উৎস ইন্ডিগো নিজেই। অন্য কোনও এয়ারলাইন্স এ রকম সঙ্কটে পড়েনি।” তিনি জানান, নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে। অথচ স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা—কোনও সংস্থায় এমন অচলাবস্থা দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “সমস্যাটা নিয়ম নয়, সমস্যা ইন্ডিগোর ভিতরেই।”

যাত্রী দুর্ভোগ, চলছে লাগাতার বাতিল:

টানা দু’দিন ধরে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে যাত্রী ক্ষোভ এখন চরমে। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার দাবি জানালেও শনিবারও বহু উড়ান বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিমান মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইন্ডিগো সংস্থার বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রী জানান, কোন স্তরে গলদ, কে দায়ী—সবই খতিয়ে দেখা হবে।

প্রস্তুতির অভাব নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইন্ডিগোকে প্রশ্ন করে বলেন, “আমরা সব এয়ারলাইনকে আগেই জানিয়েছি। এয়ারবাস এ৩২০-এর বিষয়ে ইএএসএ–র নির্দেশ মাত্র এক সপ্তাহে ৩২৩টি বিমানে সম্পন্ন হয়েছে, একটিও সমস্যা ছাড়াই। তাহলে ইন্ডিগোই বা পারল না কেন?” মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অ্যাকশন ‘হতে পারে’, এ কথা নয়। অ্যাকশন হবেই। এ রকম ঘটনা চলতে দেওয়া যাবে না। যাত্রীই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

যদিও শুক্রবার দুপুরে ইন্ডিগো-কে শ্রমবিধিতে ছাড় দেয় ডিজিসিএ। পাইলট ও ক্রু সদস্যদের সাপ্তাহিক বিশ্রাম সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলা হয়। উল্লেখ্য, পাইলট ও বিমানকর্মীদের নতুন ডিউটি টাইম লিমিটেশন রুলস মানতে গিয়েই পাইলট সঙ্কটে শ’য়ে শ’য়ে বিমান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল সংস্থা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy