রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামনে এল চরম গাফিলতির ছবি। কোনো সাধারণ নাগরিক নন, এবার খোদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা ইসরোর বিজ্ঞানী পার্থপ্রতিম রায় এবং তাঁর পরিবারের নাম উবে গেল সংশোধিত খসড়া তালিকা থেকে। একই দশা বেহালা পশ্চিমের বাসিন্দা তথা ইসরোর অন্য এক বিজ্ঞানী অনিকেত চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারেরও।
অধ্যাপক পার্থপ্রতিম রায়ের ঘটনা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ইসরোর বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পার্থপ্রতিম রায় জানান, ২০০২ সাল থেকে তাঁর নাম তালিকায় ছিল। ২০২৫-এর প্রাথমিক তালিকাতেও নাম ছিল। নিয়ম মেনে বিএলও-র হাতে সস্ত্রীক এনামুরেশন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, অধ্যাপকের নাম নেই! বিএলও-র সঙ্গে কথা বললেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।
চক্রবর্তী পরিবারের হয়রানি: বেহালা পশ্চিমের ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিকেত চক্রবর্তী পেশায় ইসরোর বিজ্ঞানী। তিনি এবং তাঁর দাদা অনির্বাণ চক্রবর্তী (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার) ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তা সত্ত্বেও ২০২৫-এর এসআইআর তালিকা থেকে তাঁদের নাম বেমালুম উবে গিয়েছে।
কমিশনের নিয়ম বনাম বাস্তবতা: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি তালিকা থেকে কারও নাম বাদ দিতে হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট কারণ (মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট) দেখাতে হয়। কিন্তু এই দুই পরিবারের ক্ষেত্রে কোনো কারণই দর্শানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিএলও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাঁদের নতুন করে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষোভ ও সংশয়: যাঁরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিয়মিত ভোট দিচ্ছেন এবং সমাজের উচ্চশিক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন, তাঁদের নাম কীভাবে ‘উবে’ যেতে পারে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। এটি নিছকই যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি এনামুরেশন প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের গাফিলতি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ চক্রবর্তী ও রায় পরিবার।