কথায় আছে, মনোবলই আনে সাফল্য। আর তেমনই এক নজির গড়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বাসিন্দা, মাত্র ২৭ বছর বয়সী গৃহবধূ পায়েল কর্মকার। নিজের দুই যমজ সন্তান ও সংসার সামলেও তিনি ঘরে বসে কেক বানিয়ে শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, পাশাপাশি আরও দেড়শো জন গৃহবধূ ও যুবতীকে স্বনির্ভর করে তুলেছেন। বর্তমানে তাঁর একটি কেক তৈরির উপকরণ ও সামগ্রীর দোকানও রয়েছে।
স্বনির্ভরতার পথে যাত্রা:
শুরুর গল্প: স্বামী দেবজ্যোতি কর্মকার পেশায় ম্যাডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হলেও, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই পায়েল দেবীর স্বনির্ভর হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে ছিল।
কেক তৈরি: ২০১৯ সালে তিনি প্রথম বাড়িতে কেক বানানো শুরু করেন। সেই সময় হোম মেড কেকের মার্কেটিংয়ের জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নেন, যা থেকে প্রচুর অর্ডার আসতে থাকে।
জনপ্রিয়তা: কেকের ভালো স্বাদ, ডিজাইন ও গুণগত মানের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা হু-হু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বড়দিন থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফ্রুট কেকের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই সময় তিনি দিনরাত এক করে কাজ করেন।
ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ:
একসময় বাড়ির ডাইনিং টেবিলে কেক তৈরি করা পায়েল দেবী, চাহিদা বাড়তে থাকায় বর্তমানে কেক বানানোর একটি ওয়ার্কশপ করেছেন।
প্রশিক্ষণ: এই ওয়ার্কশপে তিনি মহিলাদের কেক বানানোর প্রশিক্ষণ দেন। গত ৫ বছরে ১২টি ব্যাচের মহিলাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, যাঁরা এখন বাড়িতে বসেই কেক তৈরি করে মোটা আয় করছেন।
উপকরণের দোকান: প্রায় তিন বছর আগে তিনি কেক তৈরির উপকরণ ও সামগ্রীর দোকান চালু করেন। তাঁর দোকান থেকে এই সমস্ত সামগ্রী এখন শুধুমাত্র আসানসোল এলাকায় নয়, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা-সহ ভিন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।
পায়েল দেবীর এই উদ্যোগ কেবল তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে রোজগারের সুযোগ দেয়নি, বরং অন্যান্য হোম মেকার মহিলাদের কাছেও স্বনির্ভর হওয়ার এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।