আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী, মৌলভি নূর জালাল জালালি, তাঁর প্রথম সরকারি সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এই সফর আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যখাতে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘এক্স’ (পূর্বে টুইটার)-এ একটি পোস্টে বলেন,
“আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী, মহামান্য মৌলভি নূর জালাল জালালিকে তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফরে উষ্ণ স্বাগত। এই সফর আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যখাতে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের প্রতিফলন, এবং আমরা ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছি।”
তালিবান মন্ত্রীদের ধারাবাহিক ভারত সফর:
তালিবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে এটি ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিক উচ্চ-পর্যায়ের সরকারি আদান-প্রদানের অংশ।
-
বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি: অক্টোবরে, তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রথমবার ভারত সফর করেন। তিনি এই উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে।”
-
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী নুরুদ্দিন আজিজি: নভেম্বরে, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী, নুরুদ্দিন আজিজি পাঁচ দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি এসেছিলেন। এই সফরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের বিষয়ে আজিজির সাথে আলোচনা করেন।
পীযূষ গোয়েল তখন বলেছিলেন, “আমাদের আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং পণ্য ও বিনিয়োগের চলাচল সহজ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের জন্য আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা আমাদের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছি।”
কৌশলগত গুরুত্ব:
বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের দূরত্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ও ভারতের বন্ধুত্ব পেতে মরিয়া চেষ্টা করছে। তালিবানি শাসকরাও বর্তমানে ভারত বিদ্বেষ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, ভারতের পক্ষ থেকে মানবিক ও স্বাস্থ্যখাতে সমর্থন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।