অসুস্থ স্বামী বুথ লেভেল অফিসার (BLO), তাঁর হয়ে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ করছেন স্ত্রী। আবার কোনও বিএলও মোবাইল বা প্রযুক্তিতে ততটা দক্ষ নন বলে তাঁর কাজ করে দিচ্ছেন ছেলে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে গিয়ে নিজেদের এমন অভিজ্ঞতা ও একগুচ্ছ অভিযোগ জানালেন বিএলও-দের পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার BLO অধিকার রক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে মোট ৯ জনের একটি প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। এই দলে ক্ষতিগ্রস্ত বিএলও পরিবারের সদস্যরা এবং ছয়জন বিএলও ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ:
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজ: ডোমজুরের বিএলও অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় SIR-এর কাজে বাড়ি বাড়ি ঘোরার সময় ডান পায়ে সংক্রমণ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর স্ত্রী মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর স্বামী ৫০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনির্বাণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মৌমিতা দেবী নিজেই ডেটা এন্ট্রি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ERO (Electoral Registration Officer) এবং AERO (Assistant Electoral Registration Officer) তাঁকে স্বামীর কাজ করে দিতে বলেছিলেন।
কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু: মৃত বিএলও নমিতা হাঁসদার স্বামী মাধব হাঁসদা জানান, SIR ফর্ম বিলি করার সময় তাঁর স্ত্রী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর স্ত্রীর আগে কোনো অসুস্থতা ছিল না। মাধব হাঁসদা কমিশনের কাছে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ এবং ছেলের জন্য একটি চাকরির আবেদন জানান।
কাজের চাপে মৃত্যু: মৃত বিএলও জাকির হোসেনের পুত্র ইমদাদুল হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেন, “চলতি SIR-এর কারণেই আমার বাবা মারা গিয়েছেন।” তিনি বলেন, তাঁর বাবা ডেটা এন্ট্রি করতে পারতেন না, তাই তিনি নিজেই বাবাকে সাহায্য করতেন। কমিশন ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান ইমদাদুল।
বিএলও-দের দাবি:
প্রতিনিধি দলে থাকা বিএলও বাপ্পাদিত্য গুহ জানান, তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। বিএলও সোনালী বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রবর্তী বলেন, “এই অল্প সময়ের মধ্যে SIR-এর এত বিশাল কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। আরও সময় দিতে হবে। মোটামুটি কত সময় লাগতে পারে সেটা সিইও-কে বিবেচনা করে ঠিক করতে হবে।”