যুবভারতীর ঘটনায় নৈতিক দায় নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অরূপ বিশ্বাস ইস্তফা (Aroop Biswas’s Resignation) দেওয়ার পর যখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়ালেন বলাগড়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক এবং বিশিষ্ট লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তিনি প্রকাশ্যে অরূপ বিশ্বাসের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
অরূপ বিশ্বাসের মানবিক পরিচিতি:
মনোরঞ্জন ব্যাপারী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি অরূপ বিশ্বাসকে শুধু একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, “মাননীয় অরূপ বিশ্বাস মহাশয় আদ্যোপান্ত একজন ভালো মানুষ। অনেক বছর আগে থেকেই ওনাকে চিনি। কারণ আমার জীবনের অনেকটা সময় যাদবপুরে কেটেছে।”
বিশৃঙ্খলা আয়োজকদের দোষ, মন্ত্রীর নয়:
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর দাবি, মেসি যেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন, সেদিন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতি ছিল কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বপরায়ণ। তাঁর মতে, মাঠে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রীকে দায়ী করা উচিত নয়।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সেদিন যুবভারতীতে যে অব্যবস্থার কারণে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল আয়োজকদের। বিধায়কের যুক্তি ছিল, যদি সেদিন একটি খোলা গাড়িতে মেসিকে একবার মাঠ ঘুরিয়ে দেওয়া হতো, তবে দর্শকদের এতটা ক্ষুব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত না।
অন্য রাজ্যের ঘটনার সঙ্গে তুলনা ও বিজেপির সমালোচনা:
মনোরঞ্জন ব্যাপারী অরূপ বিশ্বাসের নৈতিক পদক্ষেপের বিপরীতে দেশের একাধিক বড় ঘটনার উদাহরণ টেনে এনেছেন এবং সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন।
“গুজরাট দাঙ্গার পরে মোদী পদত্যাগ করেননি। পুলওয়ামা বা পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরেও পদ আঁকড়ে বসে ছিলেন। কুম্ভ মেলায় অসংখ্য মানুষ মারা যাওয়ার পরেও যোগী আদিত্যনাথ পদত্যাগ করেননি।”
তিনি মন্তব্য করেন, এত বড় ঘটনার পরও পদত্যাগ না করার নজির যেখানে রয়েছে, সেখানে যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া অপেক্ষাকৃত ‘সামান্য’ ঘটনার দায় স্বীকার করে অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেছেন—এটাই বাংলার রাজনীতিকে আলাদা করে তোলে।
তাঁর মতে, “মা-মাটি-মানুষের সরকার” এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বলেই এমন দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে। মনোরঞ্জন ব্যাপারী মনে করেন, এই পদত্যাগ রাজনৈতিক সুবিধার ঊর্ধ্বে নৈতিক দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি নজির হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য তৃণমূল শিবিরে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।