ঝাড়গ্রাম সংশোধনাগারে আলোর দিশা, মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বনির্ভরতার পথে আবাসিকরা

অপরাধের কারণে সংশোধনাগারে সাজা কাটানো বন্দিদের মুক্তির পর সমাজের মূল স্রোতে ফেরা এবং রোজগার শুরু করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সমাজে ‘আসামি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে তাঁরা কাজ পেতে এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে প্রায়ই বাধার সম্মুখীন হন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কারা বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যান পালন বিভাগ

ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগারের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আবাসিকদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এবার মাশরুম চাষের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার আওতায় জেলা উদ্যান পালন দফতরের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের বিস্তারিত তথ্য

ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সাতজন মহিলা-সহ মোট ২০৫ জন আবাসিক রয়েছে সংশোধনাগারে।

  • প্রথম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ: প্রথম পর্যায়ে ৫০ জন আবাসিককে (মহিলা আবাসিক-সহ) মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

  • উৎপাদন ও পদ্ধতি: জেলা উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিক তামসী কোলে জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আবাসিকদের মাশরুম চাষের জন্য ১০০টি ব্যাগও তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এক একটি ব্যাগ থেকে দুই থেকে আড়াই কেজি মাশরুম উৎপন্ন হবে।” প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে খড়কুটো ও মাশরুম বীজ পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে নিয়মত জল স্প্রে করলেই ২০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে মাশরুম উৎপন্ন হয়ে যায়।

  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম ৫০ জন আবাসিক পরবর্তী ক্ষেত্রে আরও ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবে। এইভাবে সকল আবাসিককে মাশরুম চাষে দক্ষ করে তোলা হবে।

ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগারের সুপার রাজেশ কুমার মন্ডল বলেন, “সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পুরোনো কাজে ফেরত যেতে পারেন না অনেকে। তাই কারা দফতরের সহযোগিতায় আবাসিকদের উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আবাসিকরা আগামীদিনে অন্যান্যদেরও প্রশিক্ষণ দেবে।”

সংশোধনাগারে একটি ঘরকে মাশরুম চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সারা বছর ধরে প্রশিক্ষণ ও মাশরুম চাষ চলবে। এর ফলে ভালো পরিমাণে মাশরুম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy