SIR প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ! নির্বাচন কমিশনকে ১০ দিনের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ

সারা রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগের মধ্যেই এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনকে ১০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে হলফনামা (Affidavit) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ১৯ নভেম্বর।
মামলাকারীর মূল বক্তব্য: মামলাকারী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন:
হুমকি ও মর্মান্তিক ঘটনা: তিনি অভিযোগ করেন, “বিএলও-দের প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় হুমকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একাধিক মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে” (উল্লেখ্য: SIR আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী খবর)।
রাজ্যের ভিন্ন পরিস্থিতি: তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিহারের পর এ রাজ্যে এসআইআর করা হলেও, দু’টি রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।
‘ডেড লিস্ট’ বিতর্ক: মামলাকারীর দাবি, ২০০২ সালের এসআইআর লিস্টটি এখন ‘ডেড লিস্ট’। তিনি বলেন, “আমরা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছি না, তবে বেস ডেটা যেন ২০২৫ সালের ভিত্তিতে করা হোক।”
নির্বাচন কমিশনের পালটা যুক্তি: নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী আদালতের সামনে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেন:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: তিনি জানান, কমিশন বিহার এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশগুলি অনুসরণ করছে।
পুরোনো তালিকা: আইনজীবী আরও জানান যে, ২০০২ সালের পর ফের ২০২৫ সালে এসআইআর প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
অন্য মামলায় যোগদানের পরামর্শ: তিনি মামলাকারীদের পরামর্শ দেন যে তাঁরা চাইলে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বিহার সংক্রান্ত মামলায় যুক্ত হতে পারেন।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ সময় জানান, তিনি বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় একটি আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।