SIR-আতঙ্কে মানসিক অবসাদ, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু ৭২ বছরের বৃদ্ধের

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। নদিয়া জেলার তাহেরপুরের কৃষ্ণচকপুর মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা শ্যামল কুমার সাহা (৭২) নামের এক বৃদ্ধ সোমবার সকালে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে SIR আতঙ্ক এবং মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
শ্যামল কুমার সাহার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মৃত্যু SIR ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
কেন আতঙ্কিত ছিলেন বৃদ্ধ?
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে শ্যামল কুমার সাহা বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন। তাঁর জমি-জায়গার কাগজপত্র এবং আধার কার্ডও রয়েছে। কিন্তু তাঁর দুশ্চিন্তার মূল কারণ ছিল:
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না।
এই কারণে তিনি ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আশঙ্কায় ভুগছিলেন।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) SIR-এর ফর্ম দিয়ে আসেন। এর পর থেকেই বৃদ্ধের মানসিক অস্থিরতা বাড়ে।
মৃতের স্ত্রী বলেন, “তাঁর স্বামী খুব দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। আধার কার্ড ও দলিল আছে। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বাড়িতে কথাবার্তা কমিয়ে দিয়েছিলেন। খুব বিরক্ত হয়ে থাকতেন। সোমবার সকালে মারা যান।”
পোশাক ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করা এই বৃদ্ধ SIR শুরু হওয়ার পর থেকে নাওয়া-খাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পরিবার।
SIR আতঙ্কে মৃত্যু-মিছিল? বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
নদীয়ার এই মৃত্যুর ঘটনা SIR আতঙ্ক নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।
এর আগে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় SIR আতঙ্কে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই সব মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দায়ী।
অন্যদিকে, শুধুমাত্র ভোটারদের মধ্যেই নয়, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও মানসিক চাপ বাড়ছে। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও BLO নমিতা হাঁসদা অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান বলে তাঁর স্বামী দাবি করেছেন।
সব মিলিয়ে, SIR প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক উদ্বেগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।