সাত সকালে কলকাতার গিরিশপার্ক এলাকা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মেট্রোর তিন নম্বর গেটের পাশে একটি পরিত্যক্ত পৈতৃক বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১ বছর বয়সী ওই যুবকের দেহ। মৃতের নাম সৌম্যদিত্য কুণ্ডু। এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে—সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
📌 পৈতৃক ভিটেয় রহস্যজনক মৃত্যু:
জানা যাচ্ছে, যে বাড়ি থেকে সৌম্যদিত্যর দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি তাঁদের পৈতৃক ভিটে। সেখানে মাঝে মাঝেই তিনি যাতায়াত করতেন। পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন সৌম্যদিত্য। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন।
📌 ট্যাবে লেখা ছিল ‘LOST’:
দেহ উদ্ধারের পর মৃতের ঘর থেকে পুলিশ একটি ট্যাব উদ্ধার করেছে। সেই ট্যাবে শুধু একটি শব্দ লেখা ছিল—‘LOST’। তবে এর নেপথ্যে কী কারণ, তা স্পষ্ট নয়। মৃতের পরিবারও কিছু বুঝতে পারছে না। এই ঘটনা থেকেই প্রশ্ন উঠছে—পাইলট প্রশিক্ষণরত এই যুবক কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন?
📌 শোকস্তব্ধ পরিবার:
সৌম্যদিত্য দক্ষিণ আফ্রিকায় পাইলটের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। ছেলেকে হারিয়ে তাঁর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। মায়ের হাতে গোপাল, তাঁর হাউহাউ কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মৃতের বাবা জানান, “গতকাল বিকেলের পর থেকে ও ফোন ধরছিল না। ওর একজনই বন্ধু ছিল। তাকে ডাকলাম। সে এসে লোকেশন ট্র্যাক করে দেখল গিরিশপার্কেই রয়েছে। তারপর আমরা তালা ভেঙে দেখি এই অবস্থা। আমরা কোনো সমস্যার কথা বুঝতেই পারিনি।”
দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই পুলিশ এই রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে।