BJP-র আমলে প্রথম দুর্গাপুজো! ক্লাবগুলির অনুদান কি বন্ধ হচ্ছে নাকি বাড়বে?

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলি প্রতিবছর মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদান পেত এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবছরই সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। তবে বর্তমান নতুন সরকারের আমলে এই অনুদান ঘিরে এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে ও পুজো উদ্যোক্তাদের অন্দরে চরম ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সূত্রে ইদানিং শোনা যাচ্ছে যে, যে সমস্ত পুজো কমিটিগুলির নিজস্ব বাজেট তুলনামূলকভাবে কম, শুধুমাত্র সেই সমস্ত গরিব ও ছোট পুজোগুলিকেই এবার সরকারি অনুদান দেওয়া হতে পারে। তবে ঠিক কোন নিয়মে এবং কত টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারি করেনি। এমন এক অনিশ্চিত ও কৌতূহলোদ্দীপক পরিস্থিতিতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যের পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে সরকার।

পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়া প্রসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে এখনই আগাম কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আগে থেকে কিছু বলা যায় না, বৈঠকের দিনই সবাই সবকিছু জানতে পারবেন।” উল্লেখ্য, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পুজোর অনুদান তো দেওয়াই হতো, পাশাপাশি ক্লাবের বিদ্যুতের বিলেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হত। শুধু তাই নয়, দমকল বা ফায়ার লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি ফি সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা এবং উৎসবের দিনগুলিতে প্রশাসনিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ করে, এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন রাজ্যের পুজো উদ্যোক্তারা।

বিগত সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রতিবছর সাধারণত আগস্ট মাসের মধ্যেই পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতেন এবং সেই বৈঠকেই অনুদান ও নানা সরকারি ছাড়ের কথা ঘোষণা করে দিতেন। গত বছর বিগত সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের বেশ কিছু জনপ্রিয় সরকারি প্রকল্প বন্ধ না হলেও, কিছু প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য ব্যক্তি অর্থাৎ যাঁদের সত্যিই আর্থিক দরকার, তাঁদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর। অর্থাৎ, যে সমস্ত পুজো কমিটিগুলির তীব্র অর্থের অভাব রয়েছে বা বাজেট অত্যন্ত কম, শুধুমাত্র তাঁদের কাছেই যাতে সরকারি অনুদান সঠিকভাবে পৌঁছয়, তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে দুর্গোৎসবের আনন্দের মাঝেই সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে পুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গের বেহাল রাস্তাঘাটগুলির দ্রুত মেরামতে বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত রাস্তার ছোট-বড় গর্ত দ্রুত মেরামত করে ফেলার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রাস্তার সংস্কার ও মেরামতের কাজের মূল দায়িত্ব পূর্ত দফতর, পঞ্চায়েত এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলিকে যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের কদিন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।