৯০ লক্ষ টাকার এইচ-ওয়ানবি ভিসা, ট্রাম্পের নতুন নিয়মে ভারতীয়দের মাথায় হাত!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে এখন থেকে আমেরিকায় এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার আবেদন করতে প্রতি আবেদনকারীকে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা ফি দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভিসা প্রক্রিয়ার শুরুতেই আবেদনকারী ও তাদের নিয়োগকর্তাদের মেটাতে হবে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন চাকরির বাজারকে সুরক্ষিত করা এবং শুধুমাত্র সবচেয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীদেরই আমেরিকায় প্রবেশাধিকার দেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয় পেশাদাররা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার ওপর।

এইচ-ওয়ানবি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো ভারতীয়রা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ইস্যু হওয়া এইচ-ওয়ানবি ভিসার প্রায় ৭১-৭৩ শতাংশই ভারতীয়দের হাতে যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় দুই লক্ষের বেশি ভারতীয় এই ভিসা পেয়েছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাদাররা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

হিসেব বলছে, যদি শুধুমাত্র ৬০,০০০ ভারতীয় এই নতুন ফি-এর আওতায় আসেন, তবে তাদের বার্ষিক আর্থিক বোঝা দাঁড়াবে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। আর যদি সব আবেদনকারীকে এই ফি দিতে হয়, তবে মোট খরচ ১.৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। একজন মাঝারি স্তরের ভারতীয় প্রকৌশলীর বছরে উপার্জনের প্রায় ৮০ শতাংশই কেবল ভিসা ফি মেটাতে খরচ হয়ে যাবে। এর ফলে উচ্চ বেতনের চাকরি ছাড়া অন্য পেশার জন্য আমেরিকায় অভিবাসন প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।

এই নতুন নীতি কেবল ভারতীয়দের নয়, আমেরিকার বহু শিল্পকেও বিপদে ফেলবে। ইনোসিস, টিসিএস, উইপ্রো-র মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো হাজার হাজার প্রকৌশলীকে মার্কিন গ্রাহকদের জন্য পাঠাতো। এই বিশাল ফি তাদের ব্যবসায়িক মডেলকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফটের মতো মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও এইচ-ওয়ানবি ভিসার উপর নির্ভরশীল। এই সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রতিটি কর্মীর জন্য অতিরিক্ত ১ লক্ষ ডলার খরচ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। একইভাবে, ব্যাঙ্ক ও টেলিকম খাতের মতো অন্যান্য শিল্পও দক্ষ কর্মী নিয়োগে সমস্যার মুখোমুখি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবেও টেকসই নয়। তাদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের খরচের বেশি ফি ধার্য করার অনুমতি সরকারকে দেওয়া হয়নি। তাই এই নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তা বাতিলও হয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোরতার পাশাপাশি একটি “গোল্ড কার্ড” ভিসা স্কিমও চালু করেছে, যেখানে ধনী বিনিয়োগকারীরা ৫০ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষ কর্মী ও ছাত্রদের প্রবেশ কঠিন করে ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য পথ সহজ করতে চাইছে।

সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে মার্কিন কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে যেমন ভারতীয়দের সম্ভাবনা সংকুচিত করবে, তেমনই আমেরিকার প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তিও তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।