“৮ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টা!”-নবান্নের বড় সিদ্ধান্ত, নিয়ম ভাঙলেই সোজা জেল?

সামনেই কালীপুজো ও দীপাবলি। আর উৎসবের এই মরশুমে বাজি পোড়ানো নিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল নবান্ন। বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনেই পোড়ানো যাবে বাজি। পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে কেবল কেন্দ্রীয় সংস্থা অনুমোদিত ‘সবুজ বাজি’ বা ইকো-ফ্রেন্ডলি ক্র্যাকার্স।
তবে প্রশ্ন উঠছে, বাজারে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে নকল বাজির ভিড়ে আসল ‘সবুজ বাজি’ চিনবেন কীভাবে? প্যাকেটের গায়ে শুধুমাত্র ‘গ্রিন’ বা ‘ইকো ফ্রেন্ডলি’ লেখা থাকলেই কি তা নিরাপদ? কেনার আগে জেনে নিন আসল বাজি চেনার কৌশল ও নবান্নের জারি করা নির্দেশিকা।
আসল ‘সবুজ বাজি’ চিনবেন কীভাবে?
সবুজ বাজি তৈরি ও গুণমান পরীক্ষার দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা CSIR-NEERI-এর ওপর। প্রচলিত সাধারণ বাজির তুলনায় এই বাজিতে অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা (Particulate Matter) এবং ক্ষতিকারক বিষাক্ত গ্যাস কম নির্গত হয়।
কেনার সময় যে ৩টি বিষয় পরীক্ষা করবেন: ১. লোগো (Logo): প্যাকেটের গায়ে অবশ্যই CSIR-NEERI-এর অফিসিয়াল ‘Green Fireworks Logo’ রয়েছে কিনা দেখে নিন।
২. QR Code স্ক্যান: আসল সবুজ বাজির প্যাকেটে একটি বিশেষ QR Code থাকে। আপনার স্মার্টফোন দিয়ে সেই কোডটি স্ক্যান করলেই প্রস্তুতকারক সংস্থা ও রেজিস্ট্রেশন বিস্তারিত দেখতে পাবেন। প্যাকেটের তথ্যের সঙ্গে স্ক্যানের ডেটা মিলিয়ে নিন।
৩. অনুমোদিত তালিকা: প্রস্তুতকারক সংস্থাটি CSIR-NEERI-এর অনুমোদিত তালিকায় আছে কিনা যাচাই করুন। শুধু ‘পরিবেশবান্ধব’ বা ‘দূষণমুক্ত’ লেখা দেখে ভুলবেন না।
সবুজ বাজি মূলত ৩ প্রকারের হয়:
SWAS (Safe Water Releaser): বাজি ফাটলে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়ে ধূলিকণা চেপে দেয়।
STAR (Safe Thermite Cracker): এতে ক্ষতিকারক পটাশিয়াম নাইট্রেট ও সালফারের ব্যবহার কম থাকে।
SAFAL (Safe Minimal Aluminium): এতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার ন্যূনতম রাখা হয়।
(মনে রাখবেন, সবুজ বাজি দূষণ কমায়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ‘দূষণমুক্ত’ নয়।)
বাজি পোড়ানোর সময়সীমা ও বিধিনিষেধ
নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
কালীপুজো ও দীপাবলি: রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত (মাত্র ২ ঘণ্টা)।
ছটপুজো: ১৫ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত।
যেসব এলাকায় বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Silence Zone): হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের বাজি পোড়ানো যাবে না। বহুতল আবাসন বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাজি পোড়ানোর সময় শব্দ ও ধোঁয়ার মাত্রা বজায় রাখতে হবে। শব্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং আলোর বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফানুস ও বাজি বাজারে কড়া নজরদারি
উৎসবের দিনে দূষণ ও অগ্নিকাণ্ড রুখতে বাজি তৈরি, মজুত, পরিবহন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ, পুরসভা ও দমকলের যৌথ টিম।
বাজি বাজার: বাজি বাজার বসাতে হবে জনবসতি থেকে দূরে ফাঁকা জায়গায়। দোকানগুলির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব এবং ফায়ার টেন্ডার বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।
ফানুস নিষিদ্ধ: দমকল বিভাগের আগাম অনুমতি ও লাইসেন্স ছাড়া কালীপুজো ও দীপাবলিতে ফানুস ওড়ানো যাবে না।
নিয়ম ভাঙলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, উৎসবের দিনগুলিতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ পুলিশি টহল ও নজরদারি চালানো হবে। বেআইনি বাজি তৈরি, মজুত বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে শব্দ তাণ্ডব চালালে নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারিসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।