জন্মের পরই মৃতপ্রায়! হাতির ছানা ‘মায়াকে’ বাঁচাতে ভান্তারায় এয়ারলিফ্ট, মৃত্যু এড়িয়ে কি ফিরবে প্রাণ?

কেরলের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৮ মাসের হাতিশাবক মায়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে। জন্মের পর মা-হারা এই শাবকটি গত ১৮ মাস ধরে বনকর্মীদের কাছে সুস্থ হয়ে উঠছিল। কিন্তু গত জুলাই মাসে একটি দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ে ফ্র্যাকচার হয় এবং হাড় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় একটি মেডিক্যাল বোর্ড তার ইচ্ছামৃত্যুর (Euthanasia) সুপারিশ করেছিল। তবে শেষ চেষ্টা হিসেবে অনন্ত অম্বানীর ভান্তারা (Vantara) পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে তাকে এয়ারলিফ্ট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশেষ লাইফ সাপোর্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে তার উন্নত চিকিৎসা। সুস্থ হয়ে মায়া কি আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে? এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

জন্মের পর থেকেই মায়ার জীবন ছিল সংগ্রামময়। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল কেরলের মালায়াট্টুর ডিভিশনের কাপ্রিক্কাড এলাকা থেকে তাকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথম থেকেই সে মায়ের দুধ বা স্বাভাবিক খাবার পায়নি। অভয়ারণ্যম-এ পশুচিকিৎসক ড. বিনয় সি বাবু এবং পরিচর্যাকারীদের নিরলস পরিশ্রমে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাই মাসে খেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ায় তার কাঁধে ও সামনের পায়ে মারাত্মক চোট লাগে। অক্টোবরের মধ্যে তার উভয় পায়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে এবং বুকে সংক্রমণ দেখা দেয়। অসহ্য যন্ত্রণা ও দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, কেরলের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন বিশিষ্ট হাতি চিকিৎসক ড. কুশল কনওয়ার শর্মার পরামর্শ নিয়ে মায়াকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা শুরু করেন। প্যারাথাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তাকে গুজরাটের জামনগরে পাঠানো হয়েছে। ভান্তারার সিইও ভিভান কারানি জানিয়েছেন, মায়াকে সুস্থ করে তুলতে এবার তাঁরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। চিকিৎসায় সফল হলে তাকে ভবিষ্যতে আবার কেরলে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।