“৮টি সন্তান নিন, আটকাচ্ছে কে?”-৪ সন্তানের থিওরিতে ওয়েইসির বিস্ফোরক পাল্টাচাল!

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি বনাম ধর্মের সমীকরণ— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। হিন্দুদের অন্তত ৪টি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী নবনীত রাণা। সোমবার মহারাষ্ট্রের আকোলায় এক জনসভা থেকে নবনীতকে নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মিম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। নিজের উদাহরণ টেনে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপি নেত্রীকে।

ওয়েইসির পাল্টা চ্যালেঞ্জ: নবনীত রাণার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ওয়েইসি বলেন, “আমার ছ’টি সন্তান আছে, দাড়ি সাদা হয়ে যাচ্ছে। কেউ একজন দাবি করেছেন একজনের চারটি সন্তান হওয়া উচিত। চারটি কেন? আটটি সন্তানের জন্ম দিন, আপনাকে কে বাধা দিচ্ছে?” এখানেই থামেননি তিনি। বিদ্রুপের সুরে ওয়েইসি আরও যোগ করেন, দরকার পড়লে ২০টি সন্তান নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিন।

নবনীত রাণার সেই বিতর্কিত ‘পাকিস্তান’ তত্ত্ব: এর আগে বিজেপি নেত্রী নবনীত রাণা হিন্দুদের উদ্দেশ্যে আবেদন করে বলেছিলেন, ভারত যাতে পাকিস্তানের মতো না হয়ে যায়, তাই হিন্দুদের অন্তত ৩ থেকে ৪টি সন্তানের জন্ম দেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এক শ্রেণির মানুষ ৪ জন স্ত্রী এবং ১৯-২০ জন সন্তানের জন্ম দিয়ে ভারতের জনসংখ্যার কাঠামো বদলে দেওয়ার ছক কষছে। সেই ‘বিপদ’ রুখতেই হিন্দুদের জনসংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে নিদান দিয়েছিলেন তিনি।

আরএসএস ও চন্দ্রবাবু নাইডুর প্রসঙ্গ: ওয়েইসি তাঁর ভাষণে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর নামও টেনে আনেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এনডিএ জোটের শরিকরাও অতীতে জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। ওয়েইসির প্রশ্ন, বিজেপি নেতারা একদিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলেন, আবার অন্যদিকে বেশি সন্তান নেওয়ার উস্কানি দেন— এটা কী ধরনের রসিকতা?

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: এই বিতর্কে মুখ খুলেছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর একে ‘উন্মাদের মতো চিন্তাভাবনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা একটি উদ্বেগের বিষয় এবং এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত। আরএসএস ও বিজেপির এই ধরণের ‘অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ প্রচার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জনসংখ্যা ও ধর্ম নিয়ে এই ধরণের মেরুকরণমূলক মন্তব্য যে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য।