৬৩ বছর বয়সে ১৫ দেশকে ধুলো মেখে বিশ্বজয়! কিরগিজস্তানে জোড়া সোনা ছিনিয়ে সোদপুরের অনুপমের কামাল

বয়স যখন ষাটের ঘর অতিক্রম করে, সাধারণ মানুষ তখন অবসর জীবনের শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বাসিন্দা অনুপম ধর চৌধুরীর কাছে বয়সটা কেবলই একটা গাণিতিক সংখ্যা। ৬৩ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ময়দানে ভারতের নাম উজ্জ্বল করে বিশ্বজয়ীর মুকুট মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলেন তিনি। কিরগিজস্তানে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্রেন্থ লিফটিং ও ইনক্লাইন বেঞ্চ’ প্রতিযোগিতায় জোড়া সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার এই বাসিন্দা।
১৫ দেশের লড়াইয়ে শেষ হাসি বাংলার
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিরগিজস্তানে বসেছিল ১৩তম আন্তর্জাতিক ‘বিশ্ব স্ট্রেন্থ লিফটিং ও ইনক্লাইন বেঞ্চ’ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর আসর। এই বিশ্ব আসরে ভারত, আয়োজক কিরগিজস্তান, কাজাখাস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালসহ মোট ১৫টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন।
ভারত থেকে ৪৪ জনের এক বিশাল দল এই টুর্নামেন্টে যোগ দেয়, যার মধ্যে বাংলা থেকে ছিলেন ৬ জন প্রতিযোগী ও ২ জন ট্রেনার। সেখানে ‘মাস্টার-থ্রি’ ক্যাটাগরিতে (৬০ বছরের উর্ধ্ব) ৮৫ কেজি বিভাগে বেঞ্চ প্রেস ও স্ট্রেন্থ লিফটিং—দুটি বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে জোড়া স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন সোদপুর পিয়ারলেস নগরের বাসিন্দা অনুপম ধর চৌধুরী।
১৯৭৯ থেকে শরীরচর্চার সূচনা, এক নজরে অনুপ্রেরণাদায়ক জার্নি
পেশাদার স্ট্রেন্থ লিফটিংয়ে অনুপমবাবুর এই সাফল্য কিন্তু হঠাৎ করে আসা সাফল্য নয়। ১৯৭৯ সাল থেকেই তিনি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। নিজের ফিটনেস ও পরিশ্রমের জোরে ১৯৮১ সালে ঐতিহ্যবাহী ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি প্রফেশনাল স্ট্রেন্থ লিফটিং এবং ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেস ফিল্ডে আসেন।
নিজের ঝুলিতে আসা অগণিত সাফল্য নিয়ে অনুপমবাবু বলেন, “জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি পদে থাকা আমার এক দাদার অনুপ্রেরণাতেই এই পেশাদার প্রতিযোগিতায় পা রাখি। এরপর যে কটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি, প্রায় সবকটিতেই সোনা পেয়েছি। কেবল ঝাড়খণ্ডের একটি ইভেন্টে বেঞ্চ প্রেসে রূপো আর স্ট্রেন্থ লিফটিংয়ে সোনা পেয়েছিলাম, বাকি সব আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আসরে সোনা জিতেছি।”
ট্রেনারদের নজরে ‘তরুণ’ অনুপম
প্রোগ্রেসিভ পাওয়ার লিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি তথা অনুপমবাবুর ট্রেনার অনির্বাণ নন্দী জানান, তরুণ অ্যাথলিটদের কাছে অনুপমবাবু এক বড় অনুপ্রেরণা। বিগত দু’বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি এবং শেষ ৬ মাস অনির্বাণবাবুর কঠোর তত্ত্বাবধানে বিশেষ ট্রেনিং নেন। ওজন বাড়ানো কিংবা কমানোর চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে যেকোনো নতুন কৌশল—খুব দ্রুত রপ্ত করে ফেলতেন অনুপমবাবু।
বিদেশের মাটিতে ১৫টি দেশকে হারিয়ে ৬৩ বছরের এই ‘তরুণে’র আন্তর্জাতিক সাফল্য আজ সমগ্র ভারতের পাশাপাশি বাংলার ক্রীড়ামহলকেও গর্বিত করেছে।