ব্রেকআপের চরম মাশুল! প্রেমিকার ওপর প্রতিশোধ নিতে বাবাকে মদ খাইয়ে ঘরে আগুন দিল যুবক

প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকার ষাটোর্ধ্ব বাবাকে পুড়িয়ে মারার চক্রান্ত! এই শিউরে ওঠা নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংঘ সুকান্তপল্লি এলাকা। ব্রেকআপের আক্রোশে প্রেমিকার বাবাকে মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অগ্নিকাণ্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রবীণ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে প্রচণ্ড উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে।

কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে?

অভিযোগ, জংশন শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দা অনিলকুমার সরকারের সঙ্গে সুকান্তপল্লির বাসিন্দা মঞ্জু ঘোষের দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি মঞ্জু এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং অনিলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করেন। এর পরেই অনিলের মাথায় চেপে বসে প্রতিশোধের ভূত।

মঞ্জু পেশায় পার্লার কর্মী। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিলেন তাঁর ষাটোর্ধ্ব বাবা নরেশ ঘোষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাড়ে চারটে নাগাদ অনিল ওই বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় এবং প্রবীণ নরেশবাবুকে নিয়ে মদ্যপান শুরু করে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে প্রচুর মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

মশা তাড়ানোর অজুহাত ও পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড

প্রতিবেশী স্বপ্না ঘোষ জানিয়েছেন, রাতের দিকে উঠোনে অনিলকে আগুন জ্বালাতে দেখে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায়, মশা তাড়ানোর জন্য ধোঁয়া দিচ্ছে। তবে তাকে বারবার ঘরের ভেতর ঢুকতে ও বেরোতে দেখে সন্দেহ দানা বাঁধে। এর কিছুক্ষণ পরেই রান্নাঘরের দিক থেকে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে।

চিৎকার চেঁচামেচিস শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং খবর দেন আলিপুরদুয়ার দমকল কেন্দ্রে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একে একে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ও দমকলকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘরের ভেতর থেকে অত্যন্ত গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নরেশ ঘোষকে।

অভিযুক্তকে বেধড়ক গণধোলাই, অবশেষে গ্রেফতার

ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয় অধিবাসীরা। পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত অনিলকুমার সরকার। উত্তেজিত জনতা তাকে আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং অনিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গ্রেফতার করে।

আলিপুরদুয়ার থানার আইসি অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিশ্চিত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র সম্পর্কের বিচ্ছেদ থেকেই এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে পুরনো কোনো আর্থিক বা পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।