৫ লক্ষ কোটি টাকার পাহাড়ে বসে ব্যাংকগুলি! সাধারণ মানুষের লোন পাওয়া নিয়ে হঠাৎ কী বিরাট সুখবর এল জানেন?

আগস্ট মাসের শেষে ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ অর্থের পরিমাণ ৫ ট্রিলিয়ন রুপি বা ৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০শে আগস্ট ব্যাংকগুলির কাছে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫.০৫ লক্ষ কোটি টাকায়। এর আগে গত ২০২৬ সালের ১৫ই এপ্রিল ব্যাংকগুলির কাছে ৫.২২ লক্ষ কোটি টাকার নগদ তহবিল ছিল। মূলত বিদেশি মুদ্রার ব্যাপক আগমন এবং মাসের শেষে সরকারের বিপুল পরিমাণ খরচের ফলেই ব্যাংকের কোষাগার এই বিশাল অঙ্কের অর্থে পূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তারল্য বৃদ্ধির মূল কারণগুলি:

  • এফসিএনআর (বি) আমানত: চয়েস ওয়েলথের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাতাপ্রসাদ পান্ডের মতে, এফসিএনআর (বি) ডিপোজিটের জন্য এফএক্স সোয়াপ সুবিধার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বিদেশি আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২১শে আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকগুলি আরবিআই-এর বিশেষ সোয়াপ সুবিধার অধীনে প্রায় ৬৫.৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করায় সোয়াবের বিনিময়ে ব্যাংকগুলি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতে পেয়েছে।

  • সরকারি ব্যয়: মাসের শেষ কয়েকদিনে সরকার কর্মচারীদের বেতন থেকে শুরু করে পেনশন পর্যন্ত বিভিন্ন বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করায় বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরবিআই-এর ব্যবস্থাপনা ও ঋণ প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব: এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সোয়াপ সুবিধার মাধ্যমে আগামী দিনে মোট ৯০ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ ঘটতে পারে, যার ফলে সিস্টেমে তারল্য ৮.৫ থেকে ৯ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিজার্ভ ব্যাংক ইতোমধ্যে সচেষ্ট হয়েছে এবং তহবিল শোষণের জন্য এখনও পর্যন্ত ২৩টি ভেরিয়েবল রেট রিভার্স রেপো (ভিআরআরআর) নিলাম পরিচালনা করেছে।

এতকিছুর পরেও ব্যাংকগুলির কাছে যে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সঞ্চিত রয়েছে, তা ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত তহবিল থাকায় ব্যাংকগুলির পক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে এবং আগামী দিনে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে এটি জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

আগামী দিনের পূর্বাভাস: এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তারল্য ৪ থেকে ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর নভেম্বরে সরকারি সিকিউরিটিজ রিডেম্পশনের জেরে নগদ ব্যালেন্স ফের বাড়লেও, ডিসেম্বরের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকের মধ্যে তারল্য নেট ডিমান্ড অ্যান্ড টাইম লায়াবিলিটিজ (এনডিটিএল)-এর ১ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha