৫০ বছর পর কলকাতার মাটিতে সাম্বা ঝড়! বিশ্বকাপ খেলা ব্রাজিল দল পা রাখতেই গগনচুম্বী উন্মাদনা শহরে

প্রায় পাঁচ দশক আগে কিংবদন্তি পেলে যখন নিউইয়র্ক কসমসের জার্সিতে কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলার সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য প্রেমের ইতিহাস। কালের নিয়ম পেরিয়ে সেই আবেগ এবার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। সদ্য বিশ্বকাপ খেলে ফেরা ব্রাজিলের পুরো জাতীয় দলটাই পা রাখল তিলোত্তমা শহরে। আর ‘সেলেকাও’দের এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার আকাশে-বাতাসে বইল উন্মাদনার সুনামি।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া বিশেষ বিমানে কলকাতায় অবতরণ করে ব্রাজিল ফুটবল দল। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই শব্দব্রহ্মে ছেয়ে যায় চারপাশ। অনুরাগীদের ভিড় ও উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তাঁকে একঝলক দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। কোচ কার্লো আনসেলোত্তি এবং দলের অন্যান্য তারকাদের ঘিরেও উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। তবে প্রশাসনের বজ্র-আঁটুনি নিরাপত্তার কারণে সাধারণ সমর্থকদের ভিআইপি গেটের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। হলুদ-সবুজ রঙের দুটি বিশেষ বাসে দ্রুতগতিতে পুরো দলকে গন্তব্য হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলেও অপেক্ষমান জনতা ‘ভিনি…ভিনি’ চিৎকারে বরণ করে নেন তাঁদের। কোচ আনসেলোত্তিকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
কলকাতায় আসার আগে ব্রাজিল দলের অফিসিয়াল সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন ও দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করা হয়, যেখানে স্মরণ করা হয় ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পেলের ঐতিহাসিক কলকাতা সফরকে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে সেই কিংবদন্তি ম্যাচ এবং পেলের জাদুকরী মুহূর্তগুলোর কথা তুলে ধরে বলা হয়, কলকাতা ফের একবার বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, কলকাতায় পা রেখেই শুক্রবার বেলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা সাম্বা ব্রিগেডের। এরপর বিকেলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মূল মাঠে তারা অনুশীলন সারবে। মাত্র একটিমাত্র প্র্যাকটিস সেশন শেষ করেই আগামী কাল খালিদ জামিলের দলের বিরুদ্ধে প্রেস্টিজ ম্যাচে মাঠে নামতে চলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফুটবলসম্রাটের স্মৃতিবিজড়িত এই শহরে ব্রাজিলের জাতীয় দলের এমন মহারণ দেখতে এখন থেকেই কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন ময়দানের আপামর ফুটবলপ্রেমীরা।