৩১ অক্টোবরের সকালে কী ঘটেছিল ১ সাফদরজং রোডে? ভারতের ‘আয়রন লেডি’র রক্তভেজা ইতিহাস!

৩১ অক্টোবর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং স্মৃতিমেদুর দিন। ১৯৮৪ সালের এই দিনটিতেই স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী তথা দূরদর্শী জননেত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁরই নিজের সরকারি বাসভবনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ভারতীয় রাজনীতিতে ‘আয়রন লেডি’ বা লোহমানবী হিসেবে পরিচিত ইন্দিরা গান্ধী কেবল একজন দুর্ধর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দেশের সার্বভৌমত্ব, নারী ক্ষমতায়ন এবং স্বাবলম্বিতার অনন্য প্রতীক।
১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে (বর্তমান প্রয়াগরাজ) পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু ও কমলা নেহেরুর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ইন্দিরা। শৈশব থেকেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আবহে বড় হওয়ায় তাঁর চিন্তা-ভাবনায় ছিল জাতীয়তাবোধের প্রবল প্রভাব। সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে পড়াশোনার পর দেশে ফিরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতার লড়াইয়ে এবং পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক প্রয়াণের পর ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ইন্দিরা গান্ধী।
নিজের শাসনকালে তিনি এমন কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা ভারতকে বিশ্বের মানচিত্রে এক নতুন শক্তি হিসেবে তুলে ধরে। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান পরাস্ত হয় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। এছাড়া ১৯৭৪ সালে ভারতের প্রথম সফল পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে দেশকে বিশ্ব দরবারে শক্তিশালী স্থানে পৌঁছে দেন তিনি। ‘গরিবি হঠাও’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরাজী। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর সকালে দিল্লির ১ সাফদরজং রোডের বাসভবন থেকে ১ আকবর রোডের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। তাঁর দূরদর্শিতা ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আজও ভারতের জাতীয় চেতনার অঙ্গ হয়ে আছে।