গান্ধীজির এক কথায় ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর পদ! জন্মবার্ষিকীতে জানুন সর্দার প্যাটেলের আত্মত্যাগের রোমাঞ্চকর ইতিহাস

৩১ অক্টোবর স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা ‘লৌহপুরুষ’ নামে পরিচিত সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী। দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর অবদান আজ ও চিরকাল ভারতের ভিত্তি হয়ে থাকবে। ব্রিটিশ রাজত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর দেশ যখন ৫৬২টিরও বেশি বিচ্ছিন্ন স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল, তখন কোনো রকম রক্তপাত ছাড়াই রক্তহীন এক বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি সমস্ত রাজ্যকে এক ছাতার তলায় এনে অখণ্ড ভারত গড়ে তুলেছিলেন।
১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাটের নাদিয়াদে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সর্দার প্যাটেল। পরিবারের আর্থিক অনটন থাকা সত্ত্বেও নিজের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আইন পাস করেন। ১৯১০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনের বিখ্যাত ‘মিডল টেম্পল’-এ ভর্তি হয়ে ৩৬ মাসের কঠিন ল কোর্স মাত্র ৩০ মাসেই প্রথম শ্রেণীতে পাস করে তাক লাগিয়ে দেন। ভারতে ফিরে আহমেদাবাদে ওকালতি শুরু করলেও, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খেড়া এবং বারদৌলী সত্যাগ্রহের সফল নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ভারতের কৃষকদের প্রধান নেতায় পরিণত হন এবং বারদৌলীর নারীরা তাঁকে ভালোবাসে ‘সর্দার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্বাধীনতার পর প্যাটেলই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সর্বসম্মতিক্রমে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু গান্ধীজির একটিমাত্র পরামর্শে তিনি নিজের দাবি প্রত্যাহার করে নেন এবং পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেন। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি আজীবন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেছেন; তাঁর নিজস্ব কোনো বাড়ি ছিল না এবং তিনি আহমেদাবাদে একটি ভাড়া করা বাড়িতে থাকতেন। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৫০ সালে এই মহামানব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর বহু বছর পর ১৯৯১ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারত রত্ন’-এ ভূষিত করা হয়।