৩০ টাকার পেঁয়াজ একলাফে ৬০ পার! চিনির পর এবার রান্নাঘর থেকে উধাও হতে বসেছে মধ্যবিত্তের স্বস্তি!

চিনির দাম সত্তর পার করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যবাসীর চিন্তা দ্বিগুণ বাড়িয়ে হু হু করে চড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দিন পনেরোর ব্যবধানে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর সময় থেকে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এ বছর উৎসবের মরসুম শুরুর অনেক আগেই নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে উৎসবের অনেক আগেই পেঁয়াজ সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারে।

খুচরো বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, চলতি মাসের গোড়ার দিকেও বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কিন্তু প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই হঠাৎ করে দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গের চাহিদার তুলনায় নিজস্ব পেঁয়াজের উৎপাদন বেশ কম থাকায় ঘাটতি মেটাতে মূলত মহারাষ্ট্রের নাসিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাংলায় দাম বৃদ্ধির খবর পেতেই নাসিকের পাইকারি বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের জোরালো দাবি, আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে গোপনে পেঁয়াজ মজুত করছে, যার জেরে জোগান কমে গিয়ে অল্প দিনে দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশের অন্যান্য শহরেও একই ছবি ধরা পড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র সরকার নড়েচড়ে বসেছে। উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব নিধি খারে সোমবার জানিয়েছেন, প্রধান শহরগুলিতে দ্রুত পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বিশেষ ট্রেন ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পরিবহন শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য বলছে, গত ২৪ অগস্ট সারা ভারতে পেঁয়াজের গড় খুচরো মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজিতে ৪৩.৫৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ২৭ টাকা। অন্যদিকে, গড় পাইকারি মূল্যও ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫.৫৮ টাকায় পৌঁছেছে। রাজ্যজুড়ে এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি রুখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।