২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলায় নজর দিয়েছে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি। এই আবহের মধ্যেই রাজ্যে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির বার্তা দিয়ে মাঠে নেমেছে ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’ (AIMIM)। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে AIMIM-এর ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু হচ্ছে।
অধিকার যাত্রার লক্ষ্য কী?
জানা গিয়েছে, এই ‘অধিকার যাত্রার’ মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের ন্যায্য দাবি, বঞ্চনা ও অধিকারকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা। এই কর্মসূচিতে দলের রাজ্য সভাপতি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ সহ অন্যান্য শক্তিশালী নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন, যা এই যাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।
মিমের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বিহারের প্রভাব
সম্প্রতি মালদহের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে সন্ধ্যা নামলেই মিমের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছেন বলে খবর সামনে আসে। এতদিন বহু মানুষের কাছে অচেনা থাকা এই দলটি হঠাৎ করেই এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পরই প্রশ্ন উঠছে—তবে কি বাংলায় মিমের হাওয়া বইছে?
প্রসঙ্গত, সদ্য শেষ হওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনে AIMIM পাঁচটি আসনে জয়লাভ করে তাদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। এরপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে তাদের সক্রিয়তা বেড়েছে। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি মালদহেও প্রচুর সংখ্যক মানুষ মিম-এ যোগ দিয়েছেন, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
মালদহ-মুর্শিদাবাদে মিমের কৌশল
-
মালদহ: মিম জানিয়েছে, তারা মালদহের ১২টি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতেই প্রার্থী দেবে। এর মধ্যে সাতটি আসনে তারা বিশেষ নজর দিচ্ছে।
-
মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদও মিমের টার্গেটে রয়েছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন যে তিনি মিমের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়বেন।
এর মধ্যেই মুর্শিদাবাদে ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।