২১টি কোম্পানি, ৪৩ জন ভুয়া পরিচালক আর কোটি টাকার জালিয়াতি! ডিজিটাল অ্যারেস্ট চক্রে ইডির জালে সিএ সহ ৩

গোয়ায় এক মহিলার সঙ্গে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) এবং অর্থ পাচারের মামলায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত ২৭ আগস্ট ইডি আধিকারিকরা ভূষণ সূর্যকান্ত মোয়ে, বিলাস নারায়ণ পাওয়ার এবং শৈলেশ দাগদু চ্যাভানকে গ্রেফতার করেন। ধৃতদের আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। এই নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো।

২০২৫ সালের জুন মাসে দায়ের হওয়া একটি সাইবার অপরাধের এফআইআরের সূত্র ধরেই এই তদন্ত শুরু হয়। প্রতারকরা গোয়ার এক মহিলাকে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের গোয়েন্দা আধিকারিক পরিচয় দিয়ে একটি ফৌজদারি মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। মানসিক চাপের মুখে ওই মহিলাকে একটি তথাকথিত গোপন সুপারভিশন অ্যাকাউন্টে ২৬ মিলিয়ন রুপি (প্রায় ২.৬০ কোটি টাকা) স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়।

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, এই বিশাল অঙ্কের টাকা লুটের পিছনে দেশজুড়ে সক্রিয় একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র কাজ করছে। লুণ্ঠিত অর্থ একাধিক ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে প্রথমে নগদ টাকা এবং পরে তা বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হতো। ইডির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ৩৩০টি অভিযোগ এবং ১৬৩টি এফআইআর নথিভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৪১৭.৪৯ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন বা জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে।

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের মধ্যে ভূষণ মোয়ে পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)। তাঁর বিরুদ্ধে এই বিশাল অপরাধ নেটওয়ার্কের জন্য ২১টি ভুয়া কোম্পানি তৈরি এবং ৪৩ জন বেনামি বা ভুয়া পরিচালককে ব্যবহার করে সেই সমস্ত কোম্পানি পরিচালনা করার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিলাস পাওয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরটিজিএস করে টাকা স্থানান্তরে এবং শৈলেশ চবন সেই অর্থমূল্যের বিনিময়ে নগদ টাকা ক্যাশ করতে সাহায্য করতেন। গত ২১ আগস্ট অভিযুক্তদের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করে ইডি। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাদের জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজার চেষ্টা চলছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha