১ কেজিতে কত বাড়ল ঘি-মাখনের দাম? মিষ্টি-লুচির আনন্দে জল ঢালল আমুল!

আলোর উৎসব দীপাবলি ও শ্যামা পুজোর ঠিক মুখেই মধ্যবিত্তের পকেটে চরম কোপ বসাল ডেইরি জায়ান্ট আমুল (Amul)। উৎসবের মরশুমে ঘরোয়া মিষ্টি, রান্নাবান্না ও পুজো-অর্চনার জন্য যখন ঘরে ঘরে ঘি এবং মাখনের চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আকাশছোঁয়া দাম বাড়াল এই জনপ্রিয় দুগ্ধজাত সংস্থা। আমুলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎসবের আনন্দে যে অতিরিক্ত খরচের ধাক্কা সামলাতে হবে সাধারণ মানুষকে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
নতুন দর অনুযায়ী, আমুলের ১ কেজির ঘি-এর প্যাকেটে এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে ৫০ টাকা! অন্যদিকে, ৫০০ গ্রাম মাখনের প্যাকেটে বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা।
একনজরে আমুলের ঘি ও মাখনের নতুন ও পুরনো দাম:
১ কেজি ঘিয়ের কার্টন: আগের দাম ছিল ৬৩০ টাকা, নতুন দাম ৬৮০ টাকা (বৃদ্ধি ৫০ টাকা)।
৫০০ গ্রাম ঘিয়ের পাউচ: আগের দাম ছিল ৩২৫ টাকা, নতুন দাম ৩৪৫ টাকা (বৃদ্ধি ২০ টাকা)।
১০০ গ্রাম মাখনের প্যাকেট: আগের দাম ছিল ৬৩ টাকা, নতুন দাম ৬৬ টাকা (বৃদ্ধি ৩ টাকা)।
৫০০ গ্রাম মাখনের প্যাকেট: আগের দাম ছিল ৩১০ টাকা, নতুন দাম ৩২৫ টাকা (বৃদ্ধি ১৫ টাকা)।
হঠাৎ কেন বাড়ল আমুলের ঘি-মাখনের দাম?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি গুজরাত এবং রাজস্থানে ব্র্যান্ডেড ঘি ও মাখনের চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণ হলো— ভেজাল দুগ্ধজাত পণ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনের অল-আউট অভিযান।
আমুলের সঙ্গে যুক্ত এক সমবায় সংস্থার শীর্ষ নেতার দাবি, গত ছয় মাসে কেবল গুজরাত ও রাজস্থান মিলেই প্রায় ২ লক্ষ কেজি সন্দেহজনক নকল ঘি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতর। নকল ঘি-এর রমরমা রুখতেই সাধারণ ক্রেতারা এখন আমুলের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের ঘি ও মাখনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে হঠাৎ চাহিদা তুঙ্গে ওঠায় সরবরাহের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।
বাজারে ঘোর সংকট: মিলছে না ঘি!
শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, আহমেদাবাদ, ভদোদরা, পুনে এবং কলকাতার বাজারে আমুলের কিছু পণ্যের চরম ঘাটতির খবরও সামনে আসছে। বিশেষ করে খুচরো বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে এখন আমুলের ‘কাউ ঘি’ বা গরুর দুধের ঘি প্রায় মিলছেই না। উৎসবের কেনাকাটার এই চরম মুহূর্তে সরবরাহের এমন ঘাটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
পকেটে কতটা টান পড়বে সাধারণ মানুষের?
উৎসবের দিনে পায়েস, ক্ষীর, মিষ্টি কিংবা লুচি-পরোটায় ঘি-মাখনের ব্যবহার অপরিহার্য। ফলে আমুলের এহেন দাম বৃদ্ধিতে উৎসবের বাজেট অনেকটাই বেড়ে গেল। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বা মিষ্টি তৈরিতে বেশি পরিমাণে ঘি-মাখন প্রয়োজন হয়, তাঁদের এই উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে।