১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট! পুজোর আগেই কি তবে বড় সঙ্কটে পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষ?

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে ফের বড় ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে দেশের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। সপ্তাহের ৫ দিন কাজ এবং সংশোধিত পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশজুড়ে দফায় দফায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)। এই ফোরামের অধীনে থাকা বিভিন্ন ইউনিয়নগুলির দাবি, দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ব্যাঙ্ক কর্মী এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ইউনিয়নের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এক দিনের প্রতীকী দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হবে। এর পরেও যদি সরকারের তরফ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না করা হয়, তবে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাগাতার তিন দিনের বড় ধর্মঘটে নামবেন কর্মীরা। এমনকি তাতেও পরিস্থিতি না বদলালে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ব্যাঙ্ক বয়কটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মূলত দুটি প্রধান ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, ২০১৫ সাল থেকে ঝুলে থাকা সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং চালুর দাবি। কর্মীরা সোম থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতে রাজি থাকার চুক্তি করলেও দীর্ঘ দু’বছর ধরে অর্থ মন্ত্রকের অনুমোদন না মেলায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, এলআইসি বা নাবার্ডে এই নিয়ম চালু থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিতে তা আটকে রয়েছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলছেন কর্মীরা।

দ্বিতীয়ত, পিএলআই (PLI) স্কিম ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বৈষম্য। ইউনিয়নের অভিযোগ, নতুন সংশোধিত ফর্মুলা অনুযায়ী ব্যাঙ্কের মাত্র ৫ শতাংশ অর্থাৎ সিনিয়র অফিসাররা যেখানে বছরে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত ইনসেনটিভ পেতে পারেন, সেখানে বাকি ৯৫ শতাংশ সাধারণ কর্মী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেতনের বেশি পাবেন না। এই বৈষম্যমূলক নীতি মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে ব্যাঙ্ক নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারের এই একপেশে মনোভাবই তাঁদের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।