“১০ হাজারে ১ লাখ ফেরত!”-জেনেনিন ডিপফেক ভিডিও চেনার ৩টি সহজ উপায়!

মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য স্ক্যামাররা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করছে। সম্প্রতি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর, এবার জালিয়াত চক্র আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দ্বারা তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও ব্যবহার করে একাধিক স্টক ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বেঙ্গালুরু পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

তবে শুধু নির্মলা সীতারামন নন, বিরাট কোহলি, অনন্ত আম্বানি-সহ একাধিক সেলিব্রিটির ফেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ভিডিওগুলি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুয়ো স্টক ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যার ফলে মানুষজন বড়সড় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ফেক অ্যাপেই ভিডিওর রমরমা

একটি রিপোর্ট মারফত জানা যাচ্ছে, সাব ইন্সপেক্টর রোহিনি রেড্ডি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে গত ১ এবং ৩ নভেম্বর বেশ কিছু ভিডিও পান। এই ভিডিওগুলিতে নির্মলা সীতারামন এবং অনন্ত আম্বানির মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের দেখা যায়। ডিপফেক ভিডিওগুলিতে অ্যাপ ডাউনলোড, রেজিস্টার এবং বিনিয়োগের জন্য জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় রিটার্ন পাওয়া যাবে। খবর অনুযায়ী, এই ডিপফেক ভিডিওগুলিতে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট অ্যাপে মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়া সম্ভব!

পুলিশের দাবি, এসব ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে আইটি অ্যাক্ট এবং ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের সেকশন ৩১৮-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

প্রতারণা থেকে বাঁচতে এই ভুলগুলি করবেন না

স্ক্যামাররা মানুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য ডিপফেক ভিডিওকে অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা সেলিব্রিটিদের মুখ ব্যবহার করে তাদের নকল ভিডিও তৈরি করছে, যেখানে এই নকল ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট অ্যাপ এবং স্কিমে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই এখন থেকে অত্যন্ত সাবধান হন। এই ধরনের ভিডিও সামনে এলে কোনওভাবেই তাতে ক্লিক করবেন বা পরামর্শ মেনে চলবেন না। একটি ভুল পদক্ষেপ আপনার কষ্টের উপার্জনের বড় অংশ উড়িয়ে দিতে পারে।

ডিপফেক চিনবেন কীভাবে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক হওয়া জরুরি। জেনে নিন সহজ উপায়ে ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করার কৌশল:

১। ভিডিওর মান: সাধারণত এই ধরনের ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হয়।

২। অডিও-ভিডিও অসঙ্গতি: অডিও (শব্দ) এবং ভিডিওর মধ্যে কোনও স্পষ্ট মিল থাকবে না।

৩। লিপ সিঙ্ক সমস্যা: ঠোঁট নড়াচড়ার সঙ্গে উচ্চারিত শব্দের মিল (লিপ সিঙ্ক) থাকে না।