১০ অক্টোবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পালাবদল! মহাকরণে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হতেই হঠাৎ কেন হাজির সেচমন্ত্রী?

আসন্ন ১০ অক্টোবরের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার ও অন্যান্য কাজ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর এই ঐতিহাসিক ভবন থেকেই তাদের প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে। এই প্রস্তুতি পর্বের মাঝেই হঠাৎ করে মহাকরণে গিয়ে নিজের দপ্তরে কাজ শুরু করলেন সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী অরূপ কুমার দাস।
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মহাকরণে বসার কথা রয়েছে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের। একই সঙ্গে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্যও অফিস তৈরির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
অরূপ কুমার দাস জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই রাইটার্সে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন, যদিও তিনি কবে পাকাপাকিভাবে বসবেন তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তবে তিনি এবং আইন মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সেখানে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সপ্তাহে অন্তত দু’তিন দিন তিনি মহাকরণে আসেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গেও সেখানে কথা বলেন, যা সাধারণ মানুষের কাছেও বেশ সুবিধাজনক হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক দফতরগুলি সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বর্তমান বিজেপি সরকার গঠনের পরই নবান্নের পরিবর্তে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকেই আবার প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যদিও সংস্কারের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আপাতত নবান্ন থেকেই কাজকর্ম চলছে, তবে মহাকরণে ফেরার এই প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন থেকেই চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গিয়েছে।