হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখেই ফাঁদে ফেলল পুলিশ? খুনের মামলায় ঐতিহাসিক রায়ে অভিযুক্তকে সসম্মানে খালাস দিল সুপ্রিম কোর্ট!

শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার (WhatsApp Chat) ওপর ভিত্তি করে কাউকে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে হাইকোর্ট—পরপর দুই স্তরের আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই রায়ের ফলে বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ছিল মামলার পটভূমি?

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয় একটি খোলা মাঠ থেকে, যার শরীরে দড়ি দিয়ে একটি মোটরসাইকেল বাঁধা ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এটিকে স্পষ্টতই খুন বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের সময় পুলিশ রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষী (সাক্ষী ৫ ও সাক্ষী ৬)-র মোবাইল ফোন বাজেট করে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করায়। সেই চ্যাটেই দাবি করা হয়, মৃত ব্যক্তির সাথে অভিযুক্তের ঝগড়া হয়েছিল এবং অভিযুক্তই ওই খুনের জন্য দায়ী। এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ওপর ভিত্তি করেই নিম্ন আদালত এবং পরবর্তীকালে হাইকোর্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।

সুপ্রিম কোর্ট কেন খালাস করল?

বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটির শুনানিতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি খুঁজে পান। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে:

  • প্রেরকের অস্বীকার: যে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটিকে মূল ভিত্তি করা হয়েছিল, সেই বার্তার প্রেরক নিজেই তা পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

  • সাক্ষ্যের অভাব: রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষী বা চ্যাটের প্রেরক-প্রাপক কেউই সরাসরি অভিযুক্তকে অপরাধ করতে দেখেননি। এটি কেবলই ‘শোনা কথার সাক্ষ্য’ (Hearsay Evidence) বা পরোক্ষ সন্দেহ মাত্র।

  • সন্দেহ প্রমাণ নয়: আদালতের পর্যবেক্ষণ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটটি বড়জোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্দেহ’ তৈরি করতে পারে, কিন্তু আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র সন্দেহের বশে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না।

  • সময়ের অমিল: ঘটনার সময় নির্দিষ্ট করা না থাকায় সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী এই চ্যাটকে একই ঘটনার অবিচ্ছেদ্য অংশ বা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে শীর্ষ আদালত প্রমাণ করে দিল যে, কঠোর আইনি প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র ডিজিটাল চ্যাটের ওপর ভর করে কাউকে অপরাধী বানিয়ে সাজা দেওয়া যায় না। এই রায় ভবিষ্যতে এই ধরণের মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি নির্দেশিকা হয়ে থাকবে।