হোটেল-সন্ন্যাসী সেজে পালানোর চেষ্টা, তবু মিলল না রেহাই! এয়ার হোস্টেসদের ছবিও ছিল ‘গুরুজি’র কাছে।

নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৭ জন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্বঘোষিত গডম্যান চৈতান্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে তদন্তে প্রতিদিন নতুন ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, চৈতান্যানন্দ তার মোবাইল ফোনে একাধিক যুবতীর ডিসপ্লে পিকচার (ডিপি)-এর স্ক্রিনশট সেভ করে রেখেছিলেন। এটি তার মধ্যে অবসেশন, স্টকিং এবং ম্যানিপুলেশন-এর প্রবণতা নির্দেশ করে।

কর্মকর্তারা আরও জানতে পেরেছেন যে চৈতান্যানন্দের ফোনে বেশ কয়েকজন এয়ার হোস্টেসের সাথে তোলা ছবি এবং তিনি যে মহিলাদের টার্গেট করেছিলেন, তাদের ছবির একটি বড় সংগ্রহ ছিল। এই সমস্ত তথ্য সামনে এসেছে যখন তদন্তকারীরা জব্দ করা ডিভাইসগুলি আরও প্রমাণের জন্য পরীক্ষা করছেন।

জেরায় সহযোগিতা নেই, চলছে মিথ্যাচার

এত প্রমাণ সামনে আসার পরেও চৈতান্যানন্দ কোনো অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় সহযোগিতা করছেন না, অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর উত্তর দিচ্ছেন এবং কেবল জোরালো প্রমাণের মুখে পড়লে কথা বলছেন। একজন সিনিয়র অফিসার বলেছেন, “তিনি বারবার মিথ্যা বলছেন এবং সরাসরি প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন।”

এদিকে, চৈতান্যানন্দের দুই ঘনিষ্ঠ মহিলা সহযোগী—যাদের আগে আটক করা হয়েছিল—তাদের হেফাজতে নিয়ে গডম্যানের মুখোমুখি জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই দুই সহযোগী ভুক্তভোগীদের কাছে তার সহজে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

১৩টি হোটেল বদল, ভুয়ো পরিচয়

বর্তমানে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা চৈতান্যানন্দকে আগে শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে কথিত শ্লীলতাহানির ঘটনাগুলি ঘটেছিল। তাকে সেই একই কক্ষগুলির ভিতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যেখানে তিনি ছাত্রীদের ডাকতেন বলে অভিযোগ।

তদন্তে আরও জানা যায়, ৬২ বছর বয়সী এই স্বঘোষিত বাবা পলাতক থাকার সময়ও তার প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছিলেন। তিনি গ্রেপ্তারি এড়াতে গত ৪০ দিনে ১৩টি কম খরচের হোটেল বদলেছেন, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। তিনি প্রায়শই সাধুদের ভিড়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন। তার ঘনিষ্ঠ শিষ্যরাই হোটেলের বুকিং সামলাতেন।

আগ্রা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তার কাছ থেকে জাতিসংঘের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত লেখা একটি সহ ভুয়ো কূটনৈতিক পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। পুলিশ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, চৈতান্যানন্দের আর্থিক লেনদেন এবং তার একাডেমিক দাবিও এখন স্ক্যানারে রয়েছে। তার প্রোফাইলে একাধিক বিদেশী ডিগ্রি, সাম্মানিক ডক্টরেট এবং ২৮টি বইয়ের লেখক হওয়ার দাবি আছে, যার অনেকগুলিতে বিশ্ব নেতাদের সমর্থন দেখানো হয়েছে। পুলিশ এখন সন্দেহ করছে, এই দাবিগুলির বেশিরভাগই বানোয়াট