“সোনিয়া গান্ধীর সিদ্ধান্তে অন্ধকারে ছিলাম”- ২৬/১১-র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক চিদম্বরম

২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত প্রতিশোধমূলক কড়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন ইউপিএ সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধানে আগ্রহী ছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

এবিপি লাইভ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিদম্বরম জানান, জঙ্গি হামলার পরেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাটিল পদত্যাগ করলে, তাঁকে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে বলা হয়। চিদম্বরম বলেন, “সামরিক বা গোয়েন্দা বিভাগ সম্পর্কে আমার খুব একটা ধারণা ছিল না। পাকিস্তান এবং আশপাশের অঞ্চলে কী ভাবে কাজ হয়, তাও অজানা ছিল। তাই প্রথমে দায়িত্ব নিতে চাইনি।”

‘সোনিয়া গান্ধীর সিদ্ধান্তে অন্ধকারে ছিলাম’:

দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর কিছু করার ছিল না। তাঁকে জানানো হয়, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী নিজে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও, তাঁকে বলা হয় যে সোনিয়া গান্ধী শহরে নেই। চিদম্বরমের কথায়, “কার্যত পুরো অন্ধকারে ছিলাম। তার পরেও দায়িত্ব নিতে হয়েছিল।”

সামরিক পথ বনাম কূটনৈতিক পথ:

চিদম্বরম ব্যক্তিগতভাবে মনে করেছিলেন, ২৬/১১-র ভয়াবহতার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সামরিক পথে না গিয়ে কূটনৈতিক পথেই এগোতে হবে।” সেই সময়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রবল চাপ ছিল ভারতের ওপর। আমেরিকার তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী দিল্লি সফরে এসে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন।

কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির:

চিদম্বরমের এই মন্তব্য সামনে আসার পরই কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসের ‘দুর্বল মনোভাব’-এর অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তোলেন, “চিদম্বরমকে কে আটকালেন? সোনিয়া গান্ধী নাকি মনমোহন সিং?” তিনি কটাক্ষের সুরে আরও বলেন, “কংগ্রেস কোন মুখে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন তোলে?” রাজনৈতিক মহলের মতে, চিদম্বরমের এই বক্তব্য ইউপিএ জমানার নিরাপত্তা নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে।