হোটেলের রান্নাঘরে হাড়হিম করা কাণ্ড! বিধায়কের আকস্মিক হানায় প্রকাশ্যে এল চরম অস্পষ্টতা

খাদ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে চলছে কড়া প্রশাসনিক অভিযান। কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে চলছে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের ম্যারাথন তল্লাশি। এর মাঝেই একেবারে সামনে থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমে পড়লেন খোদ শাসকদলের এক বিধায়ক। রান্নাঘর থেকে শুরু করে খাবারের মান—হোটেলের অন্দরে ঢুকে তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শনে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে খোদ মালিকপক্ষের।

চলমান খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহের সরকারি নির্দেশিকা মেনে জেলায় জেলায় পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছেন। এরই অঙ্গ হিসেবে বাঁকুড়ার কোতুলপুরে স্থানীয় একটি হোটেলে হঠাৎই পরিদর্শনে যান কোতুলপুরের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার। প্রাতঃকালে তাঁর এই ঝটিকা অভিযানের খবর ছড়াতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

হোটেলের রান্নাঘর থেকে শুরু করে বসার জায়গা—সর্বত্র ঘুরে পরিচ্ছন্নতা খুঁটিয়ে দেখেন বিধায়ক। শুধু তাই নয়, খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিশ্চিত করতে নিজেই হোটেলের খাবার চেখে মান পরীক্ষা করেন তিনি। এই পরিদর্শনের পর বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাদের সরকারের মূল নীতি হল সাধারণ মানুষকে উন্নত পরিষেবা ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা। আমরা চাই মানুষ সঠিক গুণগত মান বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাক। খাবারের গুণগত মানে কোনো ধরনের আপোস করা হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত কালই বাঁকুড়ার জয়পুরে একাধিক হোটেল ও খাবারের দোকানে রেইড চালিয়ে চোখ কপালে তোলার মতো বেশ কিছু বেনিয়মের সন্ধান পেয়েছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত হলুদ ব্যবহারের পাশাপাশি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ বা এক্সপায়ার্ড কোল্ড ড্রিংকস বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছিল। এমনকী, একটি নামী মিষ্টির দোকানে দইয়ের ভাঁড়ের ঠিক পাশেই জীবন্ত সাপ ঘুরে বেড়াতে দেখতে পান আধিকারিকেরা, যা দেখে রীতিমতো আঁতকে ওঠেন তাঁরা।

জয়পুরের সেই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জনস্বাস্থ্যের এই গুরুতর বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে নিজেই কোতুলপুর এলাকার হোটেলগুলিতে হানা দেন বিধায়ক। খাদ্য সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে এই ধরনের কঠোর অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।