ইরান যুদ্ধ থামলেই হুড়মুড়িয়ে কমবে তেলের দাম? মার্কিন মন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবিতে শোরগোল!

বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান সংঘাত। এই চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশ্বজুড়ে যখন এই অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেছেন যা এক লহমায় বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর জোরালো বিশ্বাস, ইরান সংক্রান্ত সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে নিচে নেমে আসবে এবং তা ব্যারেল প্রতি মাত্র ৪০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারের অনেক ওপরে লেনদেন করছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও প্রায় ৯১ ডলারে এসে ঠেকেছে। গত জুলাই মাসের পর থেকে যা সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিকে আরও বহুগুণ উস্কে দিয়েছে। তবে স্টিভ ব্যাননকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ট্রেজারি প্রধান এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, সংঘাতের অবসান ঘটলে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের এক বিশাল জোয়ার আসবে। বিপুল পরিমাণে তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার ফলেই দাম নাটকীয়ভাবে কমে ৪০ থেকে ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।

তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর এক গভীর ও সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আসছে। স্কট বেস্যান্টের মতে, অতীতে সুদের হারের সঙ্গে তেলের দামের সম্পর্ক এতটা নিবিড় ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইল্ড ২০২৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্তি দিয়েছেন যে, ইরান সংঘাত মিটে যাওয়ার পর যদি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, তবে সামগ্রিক বিশ্বীয় মূল্যস্ফীতিও বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সুদের হার কমানোর পথও প্রশস্ত হতে পারে। যদিও এই সংঘাত ঠিক কবে নাগাদ সম্পূর্ণ সমাপ্ত হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সদস্যও বর্তমানের এই সামরিক অচলাবস্থাকে ‘স্থবির’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন জাতীয় ঋণ এবং নরওয়ের ভূমিকা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তাদের ট্রেজারি হোল্ডিং ৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমিয়ে আনার একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। যদিও মার্কিন ট্রেজারি প্রধান এই পদক্ষেপের গুরুত্বকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ। বেস্যান্টের মতে, নরওয়ের এই তহবিল মূলত অন্য লাভজনক মার্কিন সম্পদ থেকে তাদের মুনাফার অঙ্ক আরও বাড়াতে চাইছে। ফ্যানি মে, ফ্রেডি ম্যাক বা জিনি মে-র মতো প্রতিষ্ঠিত গৃহঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে তারা আগ্রহী হলে মার্কিন প্রশাসন তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, কারণ এই সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচলিত ট্রেজারির চেয়ে অনেক বেশি প্রিমিয়াম অফার করে থাকে। নরওয়ের এই আর্থিক পদক্ষেপ এমন এক সংকটময় মুহূর্তে সামনে এল, যখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক এবং রেকর্ড উচ্চতাকে বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে।