হেরিটেজ টয়ট্রেনের ১৩টি ইঞ্জিনের নামে পুরস্কার, ‘স্পিরিট অব দ্য হিলস অ্যাওয়ার্ডস’ ঘোষণা করল ডিএইচআর

পাহাড়ের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে এবং ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ টয়ট্রেনকে (দার্জিলিং হিমালয়ান রেল বা ডিএইচআর) বিশ্ব মানচিত্রে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয়েছে ‘স্পিরিট অব দ্য হিলস অ্যাওয়ার্ডস’। ডিএইচআর-এর এই উদ্যোগকে পর্যটনমহল সাধুবাদ জানিয়েছে।আগামী ৩০ নভেম্বর বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন ঘুমে আয়োজিত ডিএইচআর ঘুম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।১৩টি ঐতিহাসিক ইঞ্জিনের নামে পুরস্কারএই পুরস্কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর নামকরণ। ডিএইচআর-এর ১৩টি কিংবদন্তি স্টিম লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিটি বিভাগের নামকরণ করা হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ইঞ্জিনগুলির চরিত্র ও উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে এই পুরস্কারগুলো তৈরি হয়েছে।ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এই পর্বতমালার জীবন্ত নিদর্শন। ‘স্পিরিট অব দ্য হিলস অ্যাওয়ার্ডস’-এর মাধ্যমে আমরা তাঁদের সম্মান জানাই, যাঁরা ডিএইচআর-এর মতোই সহনশীলতা, উষ্ণতা ও চিরন্তন চেতনার প্রতীক।”পুরস্কারের লক্ষ্য ও বিভাগমূলত পাহাড়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অ্যাডভেঞ্চার এবং ঐতিহ্য রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সংস্থাগুলিকে সম্মানিত করা হবে। এটি পাহাড়ের মানুষ ও ডিএইচআর-এর অটুট বন্ধনের প্রতীক।গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের বিভাগ ও মনোনীত ব্যক্তি/ক্ষেত্র:পুরস্কারের নাম (ইঞ্জিনের নামে)সম্মানিত ক্ষেত্রআয়রন শেরপা অ্যাওয়ার্ডশিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য ও নেতৃত্ব দেখানো শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী।কুইন অফ হিলস অ্যাওয়ার্ডস্থানীয় নেপালি ভাষা ও সংস্কৃতিতে উৎকর্ষ।ফরেস্ট হুইসপারার অ্যাওয়ার্ডপরিবেশ সংরক্ষণ, বনন্নোয়ন ও পাহাড় রক্ষায় বিশেষ অবদান।সোল্ডাট অ্যাওয়ার্ডসমাজসেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অসাধারণ অবদান।ভিক্টর অ্যাওয়ার্ডনারী শিক্ষা, জীবিকা বা নেতৃত্বে অনুপ্রেরণাদায়ক কাজের স্বীকৃতি (নারী বা সংস্থা)।ওয়ান্ডারার অ্যাওয়ার্ডহেরিটেজ অ্যাম্বাসাডর অব দ্য ইয়ার (ডিএইচআর ঐতিহ্য প্রচার বা সংরক্ষণে অবদান)।হোরাটিও অ্যাওয়ার্ডবছরের শ্রেষ্ঠ রেলকর্মী (নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনের জন্য)।ঘুম ফেস্টিভ্যাল: ঐতিহ্যের সপ্তাহএই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ডিএইচআর ঘুম ফেস্টিভ্যালের অংশ হিসেবে আয়োজিত হবে। প্রতি বছর শীতের মরশুমে আয়োজিত এই উৎসব এবার ২৯ নভেম্বর থেকে এক সপ্তাহ ধরে চলবে। ফেস্টিভ্যালে পাহাড়ের লোক-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, কৃষ্টি এবং হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ধসের কারণে টয়ট্রেনের পরিষেবা ব্যাহত হলেও, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ ফের তা চালু করতে সক্ষম হয়েছে। এই পুরস্কার ঘোষণা তাঁদের নতুন উদ্যমকে প্রমাণ করে।