হৃদরোগী থাকায় বন্ধ হয়েছিল গান! সেই আক্রোশেই যুবকের বাড়িতে হামলা, সোনারপুরের খুনের ঘটনায় আর কারা জড়িত?

কালীপুজোর আবহেই গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের কুস্তিয়া এলাকায়। বক্স বাজাতে ‘না’ বলায় প্রতিবেশী এক যুবককে ছুরি দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দম্পতি পিন্টু সাহা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জনকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ।

মৃত যুবকের নাম সনাতন নস্কর (৩২)।

হৃদরোগীর কথা ভেবে বন্ধ, তাতেই আক্রোশ!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে এলাকার এক কালীপুজো মণ্ডপে ব্যক্তিগত বক্সে গান বাজাচ্ছিলেন সনাতন। কিন্তু, প্রতিবেশীর বাড়িতে এক হৃদরোগী থাকায় তাঁদের অনুরোধে সনাতন সাউন্ড সিস্টেম খুলে বাড়ি ফিরে যান।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, পিন্টু সাহা ও তাঁর স্ত্রী বক্স বাজাতে জোরাজুরি করে সনাতনের বাড়িতে যান এবং ঝামেলা শুরু করেন।

মৃতের আত্মীয় রেবতী মণ্ডল জানান, “বাড়িতে অসুস্থ রোগী থাকার কারণে প্রতিদিনের মতো ১০টা পর্যন্ত বক্স বাজানো হচ্ছিল। এরপর হঠাৎই পিন্টু এবং তার স্ত্রী আসে এবং সনাতনকে বক্স বাজানোর জন্য অনুরোধ করে। তখন সনাতন বলে বক্স বাজানো যাবে না। এরপর আমরা ওদের চলে যেতে বলি।”

মায়ের সামনেই ছুরি নিয়ে হামলা!
অভিযোগ, প্রথমে পিন্টু সাহা ও তাঁর স্ত্রী মিলে সনাতনের মা ও ভাইকে মারধর করেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে পিন্টু ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন সনাতনের উপর। সনাতনের প্রতিবেশী শিবানী মণ্ডল বলেন, “বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হচ্ছিল। সেই সময় পিন্টু সনাতনের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মায়ের সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সনাতন।”

শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত সনাতনকে দ্রুত স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশি তদন্ত: আটক ২, আরও জড়িত থাকার সন্দেহ
ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে পিন্টু সাহা ও তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। গভীর রাতে সোনারপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং দু’জনকে আটক করে।

বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, “বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সোনারপুরের কুস্তিয়া এলাকায় একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।”

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এই খুনের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।