‘হুমকি দিয়ে ইস্তফা করানো হয়েছে’- ধনখড়ের পদত্যাগ নিয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়-এর পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অসুস্থতার কারণে ধনখড় পদত্যাগ করেননি, বরং তাঁকে হুমকি দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে।
কল্যাণের চাঞ্চল্যকর দাবি
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জগদীপ ধনখড়কে থ্রেট করা হয়েছে। এমনই হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, রাত ৯টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে পরদিন তাঁকে ইমপিচ করা হবে।” তৃণমূল সাংসদের এই দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, “এখন শোনা যাচ্ছে রাজনাথ সিংকে সাইডলাইন করার জন্য উপরাষ্ট্রপতি করা হবে।”
বিজেপির পাল্টা জবাব
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবির পাল্টা জবাব দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “কল্যাণ গতকাল উল্টো কথা বলেছিলেন। গতকাল বলেছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য পদত্যাগ। আজ দিদির ধমক খেয়ে অন্য কথা বলছেন।” শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “ধনখড়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক সবাই জানে। আর নির্বাচনের সময় তৃণমূলের কী ভূমিকা ছিল, সবাই দেখেছে।”
ইমপিচমেন্ট বিতর্কের নেপথ্যে কী?
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর আকস্মিকভাবে ধনখড়ের পদত্যাগ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর অতি সক্রিয়তা এবং বিচারপতি ভর্মার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা ইমপিচমেন্ট নোটিস (impeachment notice) সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই গ্রহণ করা এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্যতম কারণ হতে পারে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার চেয়েছিল, বিচারপতি ভর্মার বিরুদ্ধে সরকারের উদ্যোগে সর্বসম্মতভাবে ইমপিচমেন্ট মোশন আনা হবে। প্রথমে লোকসভায় এবং পরে রাজ্যসভায় এই প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করে ধনখড় ঘোষণা করেন যে, বিরোধী বেঞ্চ থেকে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত ইমপিচমেন্ট মোশন তিনি পেয়েছেন। সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিরোধীপক্ষের এই প্রস্তাব গ্রহণ করায় সরকার পক্ষ চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এই ঘটনাপ্রবাহের পরই ধনখড়ের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে আসে।