মাথা চুলকে অতিষ্ঠ? মাত্র কয়েক দিনেই উকুন ও চুলকানি চিরতরে দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায়!

মাথার উকুন এবং উকুনের কামড়ে মাথার ত্বকে অসম্ভব চুলকানি একটি অত্যন্ত সাধারণ অথচ অস্বস্তিকর সমস্যা, যা যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের মধ্যে বা স্কুলগামী পড়ুয়াদের মধ্যে এই সমস্যা অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। একবার মাথায় উকুন বাসা বাঁধলে তা দূর করা বেশ ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক শ্যাম্পু বা লোশন পাওয়া গেলেও, সেগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই রাসায়নিক প্রসাধনীর ওপর ভরসা না রেখে কিছু সহজ ও নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে খুব সহজেই মাথার উকুন চিরতরে দূর করা সম্ভব।

প্রথমত, উকুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম সেরা ও প্রাচীন অস্ত্র হলো নিমের তেল বা নিমের পাতার রস। নিমের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণাগুণ, যা উকুন ও তাদের ডিম বা লার্ভা ধ্বংস করতে দারুণ কার্যকর। নিম পাতা বেটে বা খাঁটি নিমের তেল মাথার ত্বকে ও চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা রেখে দিন এবং এরপর একটি সূক্ষ্ম দাঁতের চিরুনি বা উকুন তোলার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।

দ্বিতীয়ত, নারকেল তেল ও কর্পূরের মিশ্রণ উকুন তাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আধ কাপ নারকেল তেলে কিছুটা কর্পূর গুঁড়ো মিশিয়ে হালকা গরম করে পুরো চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগান। এটি সারারাত চুলে রেখে পরদিন সকালে একটি ভালো ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। কর্পূরের তীব্র গন্ধ উকুন ও তাদের ডিমের শ্বাসরুদ্ধ করে দেয়, ফলে সেগুলো খুব সহজেই মারা যায়।

তৃতীয়ত, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার উকুনের খোলস নরম করতে এবং চুলের গোড়ায় লেগে থাকা লার্ভা বা নিশ বা ঢাকনা আলগা করতে দারুণ সাহায্য করে। সমপরিমাণ জল ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে পুরো চুলে স্প্রে করুন এবং কিছুক্ষণ রেখে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে ফেলুন।

এছাড়াও, চা গাছের তেল বা টি ট্রি অয়েল-এর অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক গুণ উকুন দূর করতে অত্যন্ত ফলদায়ক। নিয়মিত সঠিক উপায়ে চুল পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে খুব কম সময়েই উকুন ও উকুনের উপদ্রব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারবেন।