হিমবাহ গলে নেমে আসছে মহাপ্রলয়! উত্তরাখণ্ডে রেড অ্যালার্ট জারি করতেই কোন বড় বিপদের আশঙ্কা?

উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জেলাগুলিতে একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় দেরাদুনের এসএসপি সমগ্র দুন পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ অ্যালার্ট মোডে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সমস্ত থানা এলাকার সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশের আলাদা দল লাগাতার টহল দিচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, নদী, স্রোত এবং জলপথের কাছাকাছি বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে লাউডহেলার ও মাইকের মাধ্যমে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে তাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদগুলির সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে রাজ্য সরকার নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বহুগুণ জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালে হিমবাহ ধসের জেরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী বন্যার মর্মান্তিক ঘটনার কথা মাথায় রেখে, কর্তৃপক্ষকে হিমবাহ হ্রদগুলির নিয়মিত ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, সমস্ত সংবেদনশীল পাহাড়ি এলাকায় উন্নতমানের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (Early Warning System) দ্রুত বসানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নেপালে সংঘটিত সাম্প্রতিক বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯-এ এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯১০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নদীর উজানে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে আরও একটি বড় বন্যার প্রবল আশঙ্কার মাঝে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরদার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে উত্তরাখণ্ডে না ঘটে, সেই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক রাজ্য প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বিপর্যয় মোকাবিলা ও পুনর্বাসন সচিব বিনোদ কুমার সুমনকে রাজ্যের সমস্ত সংবেদনশীল হিমবাহ হ্রদগুলির ওপর একটি বিস্তারিত সমীক্ষা এবং উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই হ্রদগুলির বর্তমান অবস্থা, জলের স্তর, আকারের পরিবর্তন, চারপাশের ভূখণ্ড এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষণের জন্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। সম্ভাব্য বিপদের ক্ষেত্রে সময়মতো সঠিক সতর্কতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সেন্সর, জলস্তর মাপার বিশেষ সরঞ্জাম, শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উপকরণের সম্পূর্ণ জোগান নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।