হাবল বা জেমস ওয়েবের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী! মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে মহাশূন্যে পাড়ি জমাল ন্যান্সি গ্রেস রোমান

নতুন গ্রহের সন্ধান এবং মহাবিশ্বের বহু অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হলো মহাশূন্যের নতুন ‘চোখ’— ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। স্পেসএক্স-এর শক্তিশালী ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে গভীর মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

মহাশূন্যে রোমানের দীর্ঘ যাত্রা ও অবস্থান
নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রয়াত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামানুসারে এই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘সূর্য-পৃথিবী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ বা এল২ (L2) অঞ্চলের দিকে এগিয়ে চলেছে। সেখানে পৌঁছে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থায়ী হওয়ার আগে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এরপর প্রায় তিন মাস ধরে চলবে বিভিন্ন সিস্টেম ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ‘কমিশনিং’ পর্ব, যার মাধ্যমে টেলিস্কোপটিকে পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তোলা হবে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই টেলিস্কোপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিখ্যাত হাবল বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের কাজ করার ধরন এক হলেও, রোমানের কাজ করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ আলাদা। এর ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট’ একবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই হাবলের দৃশ্যসীমার চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বড় এলাকার ওপর নজর রাখতে সক্ষম। অর্থাৎ, এটি মহাবিশ্বের কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তুকে জুম করে দেখার পরিবর্তে একবারে বিশাল এলাকা জুড়ে জরিপ চালাতে পারে।

ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার নিয়ে অনুসন্ধান চালানো, ছায়াপথগুলোর বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে এই টেলিস্কোপটি বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে আশা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোমান যখন তার মূল কাজ শুরু করবে, তখন তা মহাবিশ্বের এক বিশাল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মানচিত্র তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।