হাতের নাকেই মিলবে কাউন্সিলর! দুই প্রধান শিল্পশহরে ঐতিহাসিক সীমানা বদল করল রাজ্য সরকার

নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত, দ্রুত এবং সুসংহত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্যের দুই অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগম—শিলিগুড়ি এবং দুর্গাপুরের মোট ওয়ার্ড সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ পুরনিগম আইন, ২০০৬-এর ৭ নম্বর ধারার ক্ষমতা বলে মহামান্য রাজ্যপালের নির্দেশে এই বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছেন দফতরের অতিরিক্ত প্রধান সচিব। এর ফলে এই দুই প্রধান শহরাঞ্চলের প্রশাসনিক পরিচালন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

নতুন এই পুনর্বিন্যাসের ফলে শিল্পনগরী দুর্গাপুর পুরনিগমের মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৩টি থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫৩টি করা হয়েছে, অর্থাৎ এই পুরনিগমে নতুন ১০টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৭টি থেকে বাড়িয়ে ৬৩টি করা হয়েছে, যার ফলে এখানে মোট ১৬টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হয়েছে। বিগত কয়েক দশকে শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটায় এই দুটি শহরেই লাগাতার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। যার ফলে বহু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যার মধ্যে বিরাট ব্যবধান দেখা দিয়েছিল। বড় বড় ওয়ার্ডে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পানীয় জল, রাস্তাঘাট বা নিকাশির মতো মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছিল।

রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এলাকার জনসংখ্যা, ঘনত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বকে ভিত্তি করেই বড় ওয়ার্ডগুলিকে দ্বিখণ্ডিত বা পুনর্গঠিত করা হয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় জনবসতি অস্বাভাবিক বেশি ছিল, সেগুলিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে প্রশাসনিকভাবে সহজে পরিচালনাযোগ্য আয়তনে আনা হয়েছে। ওয়ার্ড বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ বহু দিক থেকে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ছোট আয়তনের ওয়ার্ড হওয়ায় স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানীয় জলের মতো পরিষেবা দ্রুত মিলবে। পাশাপাশি, প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা সীমিত থাকায় নাগরিকরা তাঁদের স্থানীয় কাউন্সিলরকে সহজেই কাছে পাবেন এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল আরও স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।