হাড়হিম করা নৃশংসতা! অসুস্থ মাকে ছেলে ও বউমা মিলে করত অত্যাচার, নির্যাতনে মৃত্যু বৃদ্ধার

মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির মুখে গামছা বাঁধা। সেই অবস্থায় অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে একের পর এক কিল, চড়, ঘুষি, এমনকি লাথি মেরে চলেছেন তিনি! এখানেই শেষ নয়, এরপর সোজা বৃদ্ধার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে ফেললেন নিজের স্ত্রীর পায়ের কাছে। একটি চেয়ারে বসে থাকা তার স্ত্রীর পায়ের কাছে মাকে ঘাড় ধরে মাথা ঠেকিয়ে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ক্ষমা চা। পা ধরে বল আর করবি না।’ এমনই এক হাড়হিম করা ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার তিয়োরবেড়িয়া গ্রামের এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, ছেলে এবং বউমার চরম নির্যাতনের ফলেই ওই বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু হয়েছে।
আঁচ আড়াল করার চেষ্টা প্রতিবেশীদের?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জানা গেছে, অভিযুক্ত ছেলের নাম বাবলু পাইন। পেশায় টোটোচালক এই ব্যক্তির ৬৭ বছর বয়সী মা ডলি পাইন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অভিযোগ, তার চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব পালনে ছেলে ও বউমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না। বরং, প্রতি মুহূর্তে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চলত এবং গালিগালাজসহ তার মৃত্যু কামনা করা হতো।
আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছেলে-বউমার এই কুকীর্তি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্য প্রতিবেশীরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দাসপুর থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে অত্যাচারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ জমা পড়ে অবশ্যই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
‘চোখের বিষ’ হয়ে উঠেছিলেন অসুস্থ মা:
একাংশ প্রতিবেশীর কথায়, বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধা মা যেন ছেলে, বউমা এবং নাতনির কাছে ‘চোখের বিষ’ হয়ে উঠেছিলেন। কোনো মতেই তাকে সহ্য করতে পারছিল না পরিবার। দিনের পর দিন তার উপর নির্মমভাবে লাথি, কিল, চড়, ঝাঁটা দিয়ে অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। অবহেলার শেষ পরিণতি হয় বৃদ্ধার মৃত্যু। তার মৃত্যুর পরেই তাকে মারধরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এবিষয়ে এলাকাবাসী সরলা জানা বলেন, “আমরা ঘটনার কথা শুনেছি। বৃদ্ধাকে মারধর সংক্রান্ত একটা ভিডিও দেখেছি। ওই বৃদ্ধাকে ঘরে নির্যাতন করা হতো বলে জানতে পেরেছি। এটা খুব নিন্দাজনক ঘটনা। ওদের বাড়িতে আজ হয়েছে, আগামিদিনে অন্য কারও বাড়িতে ঘটবে। তাই আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষিকা বলেন, “আমরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছি ও জেনেছি যে এরকম ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে এলাকায়। আমরা মানুষ গড়ার কারিগর। এইরকম একটা জায়গা থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা এও অনুরোধ জানাচ্ছি, কোনো মা-বাবার প্রতি এ ধরনের আচরণ যেন সন্তান কোনোদিন না করে।”
এই ঘটনা একদিকে যেমন পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি অমানবিক আচরণের এক বিভৎস চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনই সমাজের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলেও, জনমত চাইছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।