হাজার হাজার চাকরি কি শেষের পথে? বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে আইটি জায়েন্ট ওরাকল!

আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ওরাকলের কর্মীদের ওপর আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। খরচ কমানোর কঠোর লক্ষ্যে সংস্থাটি তাদের বিশ্বব্যাপী কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মী ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম ‘মানি কন্ট্রোল’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওরাকল খুব শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারে। ভারতে এই সিদ্ধান্তের সঠিক প্রভাব ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য না মিললেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এই নতুন দফার কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে ভারতের বিভিন্ন হাবের হাজার হাজার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

কোম্পানির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে ওরাকল তাদের ক্লাউড অবকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর প্রসারে অত্যন্ত বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। ব্যবসার এই পরিবর্তনশীল অগ্রাধিকার ও আর্থিক ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে ওরাকল খরচ ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করেছে। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিভিন্ন ম্যানেজার এবং বিভিন্ন টিমকে তাদের সামগ্রিক বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। ব্যয়ের এই লাগাম টানার চাপের কারণে বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ ও দক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি মানি কন্ট্রোলকে জানিয়েছেন যে, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট টিম বা বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি একযোগে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের প্রভাবিত করবে। ফলস্বরূপ, কোন নির্দিষ্ট কাজ বা কোন কর্মীরা প্রথমে ছাঁটাইয়ের মুখে পড়বেন, তা আগাম নির্ধারণ করা কর্মীদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, এই সম্ভাব্য কর্মী ছাঁটাই কবে থেকে বা ঠিক কোন সময়সীমার মধ্যে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে কর্মীদের দেওয়া সাম্প্রতিক ইঙ্গিত ও অভ্যন্তরীণ গুঞ্জন থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এই প্রক্রিয়াটি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই শুরু হয়ে যেতে পারে। এই গভীর ও চরম অনিশ্চয়তার আবহ পুরো কর্মীদলের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে। কোম্পানির প্রবীণ ঊর্ধ্বতন কর্মচারী এবং উচ্চ বেতনভুক কর্মীরা এই সম্ভাব্য কোপের মুখে পড়ে বিশেষভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অফিসের অন্দরে এই ক্রমাগত উদ্বেগের পরিবেশ এক থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ওরাকলের ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইয়ের এই ঘটনাটি একেবারেই নতুন নয়। বিগত সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি তাদের বিশ্বব্যাপী কর্মী সংখ্যা ধারাবাহিক ও ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে। সরকারি আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩১শে মে সমাপ্ত ১২ মাসের হিসাবের মধ্যে কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই প্রায় ২১,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই উল্লেখযোগ্য ও ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ফলে ওরাকলের বিশ্বব্যাপী মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বর্তমানে প্রায় ১,৪১,০০০-এ এসে ঠেকেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামগ্রিক এই প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০,০০০ পদ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এখন নতুন করে সামনে আসা এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ বিশ্ব তথা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত হাজার হাজার পেশাদারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।