হলিউড কাঁপিয়ে ৯,২০৪ কোটির মালিক! কে এই ভারতীয় ভিএফএক্স গুরু, যিনি বানাচ্ছেন ৪,০০০ কোটির ‘রামায়ণ’?

পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বিগ বাজেট ছবি ‘রামায়ণ’-এর প্রযোজক হিসেবে এই মুহূর্তে বিনোদন জগতে শিরোনামে রয়েছেন নমিত মালহোত্রা। রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী অভিনীত প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বাজেটে নির্মিত এই মেগা প্রজেক্টের পেছনে যিনি রয়েছেন, তাঁর নিজের জীবনের সফরটাই কিন্তু একটি দুর্দান্ত সিনেমার চেয়ে কম নয়।

বাবার গ্যারেজে একটি ছোট্ট ভিডিও এডিটিং ওয়ার্কশপ থেকে যাত্রা শুরু করে আজ বিশ্বমঞ্চে ৯,২০৪ কোটি টাকার বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই ভারতীয় শিল্পপতি। ‘হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট’-এ স্থান পাওয়া নমিত মালহোত্রা এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সফল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের একজন।

গ্যারেজের এডিটিং ঘর থেকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি সাম্রাজ্য

১৯৯৫ সালে মাত্র কয়েকটি কম্পিউটার আর সীমিত রসদ নিয়ে নিজের বাবার গ্যারেজ থেকে ‘ভিডিও ওয়ার্কশপ’ নামের একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন নমিত। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। সেই ছোট্ট প্রচেষ্টাকেই তিনি পরবর্তীতে রূপ দেন ‘প্রাইম ফোকাস’-এ।

কঠোর পরিশ্রম, নতুন প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার এবং সঠিক সিদ্ধান্তের জোরে প্রাইম ফোকাস দ্রুত ভারতীয় বিনোদন জগতে এক বিশ্বস্ত নাম হয়ে ওঠে। তবে নমিত সেখানেই থেমে থাকেননি। বিশ্বখ্যাত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (VFX) সংস্থা DNEG (Double Negative)-কে অধিগ্রহণ করে তিনি হলিউডের বুকেও ভারতের নাম উজ্জ্বল করেন।

অস্কার জয়ী ভিএফএক্স এবং বিশ্বজুড়ে প্রভাব

ক্রিস্টোফার নোলান ও ডেনিস ভিলনেভের মতো বিশ্বসেরা পরিচালকদের ছবির ভিজ্যুয়াল কাজ উপহার দিয়েছে নমিতের সংস্থা DNEG। ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডুন’-এর মতো বিশ্বমানের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত ভিএফএক্সের কাজ করে ইতিমধ্যেই ৮টি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) ঝুলিতে পুরেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

ফিল্মি পরিবারে বেড়ে উঠলেও—দাদু ছিলেন দেশের অন্যতম প্রথম সারির সিনেমাটোগ্রাফার আর বাবা নামী প্রযোজক—নমিত নিজের যোগ্যতাতেই এই বিশ্ব সাম্রাজ্য স্থাপন করেছেন।

ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি ও নমিতের ভিশন

নমিত মালহোত্রার প্রযোজনায় তৈরি ‘রামায়ণ’ কেবল ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় বাজেটের ছবিই নয়, বরং ভারতীয় পৌরাণিক গল্পকে হলিউড স্তরের ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটিতে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক ঐতিহাসিক প্রয়াস। আন্তর্জাতিক মানের সেরা প্রযুক্তি এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও আবেগ—এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক অভূতপূর্ব সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

বাবার গ্যারেজ থেকে শুরু হওয়া এই অবিশ্বাস্য পথচলা আজ ভারত তথা বিশ্বের উদীয়মান উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।