হরিয়ানায় বাংলা বলায় আটক ৮ পরিযায়ী শ্রমিক, পরিবারের দাবি, পুলিশি হেফাজতে চলছে অত্যাচার

বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ মালদার আট পরিযায়ী শ্রমিককে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থানায় আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের পরিবারের দাবি, পুলিশি হেফাজতে তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় শ্রমিকদের গ্রামের বাড়িতে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
মালদার চাঁচল ১ ও ২ নম্বর ব্লকের এই আট শ্রমিক পেটের তাগিদে হরিয়ানার গুরুগ্রামে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আনেসুর রহমান, আলম আলি, নাজিমুল হক, হবিবুর রহমান, নুর আলম, মুকুল হোসেন, আলম শেখ, সায়েদ আলি এবং লালটু হোসেন। তাদের পরিবার সূত্রে খবর, গত রবিবার গুরুগ্রাম পুলিশ তাদের ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। শ্রমিকদের কাছে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার, ভোটার ও প্যান কার্ড থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে হিন্দি ভাষায় কথা না বলে বাংলায় কথা বলায় তাদের এই পরিণতি।

শ্রমিকদের পরিবারের আকুতি:
আটক শ্রমিক সায়েদ আলির ভাইঝি মৌসুমী খাতুন বলেন, “আমার কাকা গুরুগ্রামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। পুলিশ এসে তার আধার কার্ড দেখতে চায়। কার্ড দেখানোর পরেও পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নেয়, জানায় থানায় গিয়ে সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হবে। শুধু তাই নয়, পুলিশ আধ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তার অপরাধ, সে পুলিশের সঙ্গে হিন্দিতে কথা না বলে বাংলায় কথা বলেছে। আমরা চাই, কাকাকে যেন দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়।”

আরেক শ্রমিক লালটু হোসেনের দাদা কাদির শেখও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, “আমার ভাই দিল্লিতে কাজ করত। সেখান থেকে হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়েছিল। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য পুলিশ তাকে এবং তার সঙ্গীদের আটক করেছে। ওরা কোনো অপরাধ করেনি। ওদের একমাত্র অপরাধ হল, ওরা বাংলায় কথা বলে। আমরা চাই, ভাইটা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসুক।”

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:
এ বিষয়ে মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ওই শ্রমিকরা যেখানে রয়েছেন, সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” যদিও চাঁচল মহকুমার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি, তবে তারা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছেন। সেইসব কাগজপত্র ইতিমধ্যে হরিয়ানা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের প্রতি এমন আচরণ কতটা সমর্থনযোগ্য, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।