হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ! বন্ধ হতে পারে ভারতের ইন্টারনেট? বিশ্বজুড়ে মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা

বিশ্ব রাজনীতির আঙিনায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বলতেই এতকাল চোখের সামনে ভেসে উঠত জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কার। কিন্তু ২০২৬-এর এই উত্তপ্ত আবহে বিশেষজ্ঞ মহলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অন্য এক তথ্য। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে সামরিক সংঘাত বা নাশকতামূলক কোনো ঘটনা ঘটলে শুধু তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে না, বরং ভারতসহ গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

মূলত, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক সাবমেরিন কেবলই (Submarine Cable) আধুনিক ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড। ভারত থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ কেবল রুট (যেমন SEA-ME-WE, AAE-1) রয়েছে, সেগুলি এই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়েই গিয়েছে। ইরান এবং আমেরিকা-ইজরায়েল দ্বন্দ্বে যদি এই কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে দেওয়া হয়, তবে ভারতের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক সরাসরি ধাক্কা খাবে।

ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেবলগুলি বিকল হলে গুগল, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ বা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং পরিষেবাগুলি চরম ধীরগতির হয়ে পড়বে। ল্যাটেন্সি (Latency) বা ডেটা পৌঁছানোর সময় বেড়ে যাওয়ায় বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতের ২৫০ বিলিয়ন ডলারের আইটি সেক্টর। যদিও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কথা বলা হয়, কিন্তু বিশ্বের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ডেটা এই সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ সঙ্কটে জ্বালানির অভাবের চেয়েও বড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’।