হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার গালে সজোরে চড়! ট্রাম্পের সমস্ত শর্ত ছুড়ে ফেলে রুখে দাঁড়াল তেহরান

বিশ্বজুড়ে তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) সাপ্লাই চেনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালী নিয়ে মহাশক্তিধর আমেরিকার সমস্ত কূটনীতীয় প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। হোয়াইট হাউসের সমস্ত শর্ত ও প্রস্তাব সজোরে প্রত্যাখ্যান করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আমেরিকার কোনো চাপের কাছেই মাথা নত করবে না ইরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসিন রেজাই আমেরিকার উদ্দেশ্যে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের কোনো আংশিক শর্তই তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
কাতার ও আমেরিকার ব্যাকডোর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকার সামনে ইরান সুনির্দিষ্ট সাতটি শর্ত পেশ করেছিল। কিন্তু রেজাইয়ের অভিযোগ, আমেরিকা কিছু শর্ত মানলেও মূল এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যুগুলিতে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে। কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তেহরান জানিয়ে দিয়েছে যে, গত জুন মাসের ইসলামাবাদ চুক্তির ভিত্তিতে পেশ করা সেই সাতটি শর্ত পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর জলপথ চিরতরে বন্ধ থাকবে। এই জলপথ দিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না এবং আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও শুরু হবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশ, কাতার এবং আমেরিকার কূটনৈতিক দরকষাকষির মূল বিতর্ক এখন এই নিয়ে যে—’প্রথমে কে পদক্ষেপ করবে’। এদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ আগেই সতর্ক করে বলেছেন যে, আমেরিকা তাদের একতরফা দাবি চাপিয়ে দিয়ে আলোচনার সময় প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী সেই সমস্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে নিষেধাজ্ঞা তোলার বিনিময়ে তেহরান জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থাকে জাহাজ পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
বাঘায়ী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। ইরানের কাছে এই মুহূর্তে একমাত্র এবং সর্বাগ্রে প্রাধান্য হলো হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছে এই মৃত্যুর জলপথ। আন্তর্জাতিক বাজার চড়া থাকলেও এবং বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজে বারুদে মোড়া কড়া তালা ঝুলেই থাকবে।