স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ছক! নিউটাউনের ব্যবসায়ীরা চিনতেন অভিযুক্ত BDO-কে! কী ঘটেছিল ফ্ল্যাটে? বিস্ফোরক দাবি মালিকের

: দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে, যেখানে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে নাম জড়িয়েছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের, যা নিয়ে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার আগে দত্তাবাদের সোনার দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্বপন কামিল্যাকে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীকে অপহরণের জন্য দুটি গাড়ি এবং চারটি বাইক ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাইকগুলির নম্বর প্লেট স্থানীয় ছিল না।

ফুটেজ অনুযায়ী, মাত্র ২৮ মিনিটের ব্যবধানে অর্থাৎ দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে নিউ টাউন AB ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে আনা হয়েছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে। সিসিটিভি-তে স্পষ্ট দেখা যায়—গাড়ি থেকে কলার ধরে নামিয়ে জোর করে তাঁকে ফ্ল্যাটে ঢোকানো হচ্ছে। রাত সোয়া ৯টা (৯টা ১৫ মিনিট) নাগাদ আবার ফ্ল্যাট থেকে টেনে হিঁচড়ে ব্যবসায়ীকে বার করার ছবিও ধরা পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীর খুনের ঘটনায় তাঁর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে সরাসরি রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম রয়েছে। নিউটাউনে যেখানে ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বিডিও-কে চেনেন বলে দাবি করেছেন, যা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আশপাশের দোকানদাররা প্রশান্ত বর্মণের ছবি দেখে নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার দিন তিনিই সেখানে এসেছিলেন।

এদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন। তবে বুধবার একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বা WhatsApp বার্তারও উত্তর দেননি। নিহত স্বপন কামিল্যার যে দোকান ভাড়া নিয়ে গয়নার ব্যবসা করতেন, তার মালিকের দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেদিন ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন।